রাশিয়া-ইরানকে একসাথে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা? মার্কিন সেনেটে নতুন বিল নিয়ে ট্রাম্পের হুঙ্কার!

রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক বার্তার মাধ্যমে দাবি তুলেছেন যে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত যে নতুন বিলটি সেনেটে পেশ হয়েছে, তাতে অবিলম্বে ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

ট্রাম্পের দাবির নেপথ্যে কী? প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্বপ্ন ছিল রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো। সেই প্রয়াত সেনেটরের অসমাপ্ত কাজের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তাঁরা এই বিলটিতে ইরানের নামও যুক্ত করেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, এটি এখন সময়ের দাবি।

কী আছে এই ‘স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৬’-এ? সম্প্রতি ৬০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনেটরের একটি দ্বিদলীয় গোষ্ঠী রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর একটি সংশোধিত বিল পেশ করেছে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • শুল্কের কড়াকড়ি: আগে রাশিয়ার পণ্য আমদানিতে ৫০০ শতাংশ শুল্কের কথা ভাবা হলেও, এখন রাশিয়ার থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা শীর্ষ ৫টি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • ছাড়ের নিয়ম: যেসব দেশ রাশিয়ার থেকে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ১৫ শতাংশের কম নেয় এবং আমদানির মাত্রা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • সহযোগীদের ওপর নজর: রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছে এমন দেশগুলোর ওপরও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা দেওয়া হবে এই বিলে।

  • চীন ও জাহাজ নিয়ন্ত্রণ: ‘শ্যাডো ফ্লিট স্যাংশনস অ্যাক্ট’ এবং চীনের সহায়তাকারী প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে ‘স্টপ রাশিয়া-চায়না অ্যাক্ট’-কে এই বিলের আওতায় আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার মদতদানকারী দেশগুলোকে চাপে ফেলা এবং তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়াই মার্কিন প্রশাসনের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহাম মৃত্যুর ঠিক আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করে এই বিলের খসড়া ও সংশোধনী নিয়ে হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সম্মতি আদায় করে নিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের এই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা ও বিলের বর্তমান খসড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী দিনে মস্কো এবং তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়াতে চলেছে ওয়াশিংটন। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই বিলের ওপর বিতর্ক এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন বিশ্বরাজনীতির নজর থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *