ইরানের ওপর ফের ‘অপারেশন’ ট্রাম্পের! জর্ডনে দুই সেনা নিহতের পরই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি আমেরিকার

জর্ডনে দুই মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এই মৃত্যুর বদলা নিতে এবার ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে শুক্রবার রাত থেকেই ইরানের বিভিন্ন অবস্থানে তীব্র বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী।
মূল লক্ষ্য কী? মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে হুমকি তৈরি করা ইরানের সামরিক ক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে জর্ডনে মার্কিন সেনাদের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। সেই হামলার যোগ্য জবাব দিতেই বর্তমানে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
সেনা নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি: শুক্রবার রাতের ওই হামলায় ২ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু ছাড়াও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। আহত বেশ কয়েকজন সেনাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কাজে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “দেশের সেবা করতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া এই বীরদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বিফলে যাবে না।”
পরিসংখ্যান কী বলছে? এই ঘটনার জেরে ইরান সংক্রান্ত সংঘাত ও যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই বায়ুসেনার সদস্য। বিশেষ করে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটছে, যা মার্কিন প্রশাসনের জন্য এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই পাল্টা আঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং বিপজ্জনক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক আপডেট: এই যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের দিকে নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা। পরবর্তী প্রতিটি মুহূর্তের খবরের জন্য চোখ রাখুন আমাদের প্ল্যাটফর্মে।