ক্রিকেট হারাল তার ‘সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র’! স্যার গারফিল্ড সোবার্সের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিরাট-শচীন

ক্রিকেট ইতিহাসের মহীরুহ পতন। ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড সোবার্স। ১৭ জুলাই তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন শচীন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি।
বিরাট কোহলির আবেগঘন শ্রদ্ধা:
সোবার্সের সাথে বিরাটের সম্পর্কের গভীরতা ছিল সর্বজনবিদিত। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বিরাটের সাথে কিংবদন্তির সাক্ষাতের সেই মুহূর্ত আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। এদিন নিজের পোস্টে বিরাট লেখেন, “ক্রিকেট তার অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড়কে হারাল। স্যার গ্যারি সোবার্স, আপনার আত্মা শান্তিতে থাকুক। আপনার কীর্তি আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করে যাবে।”
স্মৃতিমেদুর শচীন ও গাভাস্কার:
কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার তাঁর ও সোবার্সের কাটানো মুহূর্তগুলি স্মরণ করে বলেন, “২০০৩ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফিটা তাঁর হাত থেকে নেওয়ার স্মৃতি আজও স্পষ্ট। সোবার্স ছিলেন অদ্বিতীয়।” অন্যদিকে, সুনীল গাভাস্কার এই দিনটিকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বীরেন্দ্র শেবাগ ও আজহারউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া:
সোবার্সের বহুমুখী প্রতিভার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বীরেন্দ্র শেবাগ লেখেন, “অলরাউন্ডার শব্দটি যেন গ্যারি সোবার্সের জন্যই তৈরি হয়েছিল। ফাস্ট বোলিং, স্পিন, কাব্যিক ব্যাটিং—তিনি তাঁর সময়ের থেকে বহু যোজন এগিয়ে ছিলেন।” মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও তাঁর অতুলনীয় ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের প্রশংসা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একনজরে স্যারের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান:
টেস্ট ম্যাচ: ৯৩টি।
মোট রান: ৮০৩২ (গড় ৫৭.৭৮)।
শতক: ২৬টি।
উইকেট: ২৩৫টি।
ক্যাচ: ১০৯টি।
ইতিহাস: ১৯৬৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকানোর কৃতিত্ব তিনিই প্রথম গড়েছিলেন।
মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ৩৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। অলরাউন্ডারদের কাছে তিনি ছিলেন ‘স্বর্ণমান’। মাঠের লড়াইয়ে তিনি যেমন ছিলেন ত্রাস, মাঠের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অমায়িক।
ক্রিকেট ইতিহাসের এই নক্ষত্রপতনকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্সের কোন স্মৃতি আপনার সবচেয়ে প্রিয়? কমেন্ট করে জানান আপনার প্রতিক্রিয়া!