ক্রিকেট বিশ্ব শোকাতুর! ৯০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্স

ক্রিকেট ইতিহাসের মহীরুহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড সোবার্স আর নেই। ৯০তম জন্মদিনের ঠিক ১০ দিন আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ক্রিকেটের এই অমর নায়ক। তাঁর প্রয়াণে ক্রিকেট বিশ্বের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
পরিসংখ্যানের বাইরে এক মহাতারকা
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচে ৮,০৩২ রান এবং ২৩৫টি উইকেট—এই পরিসংখ্যান তাঁর দক্ষতার সামান্য পরিচয় মাত্র। তিনি ছিলেন এমন একজন ক্রিকেটার, যাকে আধুনিক অলরাউন্ডারের প্রকৃত সংজ্ঞায়িত রূপ বলা হয়।
রেকর্ড ভাঙার নেশা: ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস বহু দশক ধরে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হিসেবে অক্ষুণ্ণ ছিল। ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা সেই রেকর্ড ভাঙার আগে পর্যন্ত সোবার্সই ছিলেন ব্যাটিং বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি।
ছক্কার জাদুকর: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকানোর কৃতিত্ব তিনিই প্রথম অর্জন করেছিলেন, যা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে রূপকথার মতো।
অসাধারণ ফিল্ডার: ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও তিনি ছিলেন অসামান্য। এক ম্যাচে ৬টি ক্যাচ ধরার অনন্য রেকর্ডও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
সুনীল গাভাস্কারের প্রতিক্রিয়া
সোবার্সের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, “ক্রিকেট আজ তার উজ্জ্বলতম রত্নটিকে হারাল।” গাভাস্কারের এই মন্তব্যই বুঝিয়ে দেয় ক্রিকেট ইতিহাসে স্যার গারফিল্ড সোবার্সের গুরুত্ব কতটা গভীর ছিল।
সোবার্স ও ভারতীয় ক্রিকেট
বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া এই ক্যারিবীয় তারকা ভারতীয় ক্রিকেটের সাথেও জড়িয়ে ছিলেন। ভারতে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গেলে আজও ইডেন গার্ডেন্সের সেই ঐতিহাসিক বিশৃঙ্খলার কথা উঠে আসে। ইডেনের মাঠে সেই লাঠিচার্জ ও উত্তাল পরিস্থিতিতেও তিনি মাঠের সাক্ষী ছিলেন।
১৯৭৪ সালে যখন তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন, তখন ওয়ানডে ফরম্যাট আজকের মতো জনপ্রিয় ছিল না। তাই তাঁর বর্ণাঢ্য রেকর্ডে একদিনের ক্রিকেটের কোনো পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর আধিপত্য তাঁকে নিয়ে গেছে অমরত্বের শিখরে।
ক্রিকেট যতদিন বেঁচে থাকবে, স্যার গারফিল্ড সোবার্সের নাম ততদিন ইতিহাসের পাতায় একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে জ্বলজ্বল করবে। তাঁর মৃত্যুতে ক্রিকেটপ্রেমীরা আজ শোকাচ্ছন্ন।