জন্তর মন্তরে চূড়ান্ত নাটক! ২০ দিনের অনশন ভাঙতে সাদা পোশাকে পুলিশের ‘অপারেশন সোনম ওয়াংচুক’

টানা ২০ দিন ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে শনিবার ভোরে এক নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরিচালিত এই অভিযান নিয়ে এখন সরগরম রাজধানী।

ছিল সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, এই অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোছানো। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই নতুন পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন, যেখানে এই অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়। পুলিশ এমন সময়কে বেছে নিয়েছিল যখন আন্দোলনস্থলে লোকসমাগম ছিল সর্বনিম্ন এবং ওয়াংচুকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অভিজিৎ দীপক কিছুক্ষণের জন্য সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে সম্পন্ন হলো ৩ পর্যায়ের অপারেশন
অভিযানটিকে সফল করতে পুলিশ তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করেছে:

প্রথম পর্যায়: জনচক্ষুর আড়ালে থাকতে ইউনিফর্মের পরিবর্তে প্রায় ৩৫ জন পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। পুলিশ প্রথমে সোনম ওয়াংচুকের বিছানাটি একটি বড় সাদা চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়, যাতে কোনোভাবেই ক্যামেরায় কিছু ধরা না পড়ে। এরপর খুব দ্রুত তাঁকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়: সিআরপিএফ (CRPF) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) সদস্যরা ব্যারিকেডের বাইরে অবস্থান নেন। তাদের মূল কাজ ছিল বিক্ষোভকারীদের দূরে সরিয়ে রাখা যাতে কোনো প্রকার সংঘর্ষ না ঘটে।

তৃতীয় পর্যায়: দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো অভিযানের তদারকি করেন একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে। অ্যাম্বুলেন্স রওনা হওয়ার সাথে সাথে ট্রাফিক পুলিশ গ্রিন করিডোর তৈরি করে দেয়, যার ফলে কোনো বাধা ছাড়াই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

অভিজিৎ দীপকের পাল্টা হুঁশিয়ারি
সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর সহযোগী অভিজিৎ দীপক ঘটনাস্থলে ফিরে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের অগোচরেই পুলিশ এই বেআইনি কাজ করেছে। অভিজিৎ জানিয়েছেন, তিনি এখন থেকে অনশন শুরু করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলবেন।

পুলিশের বক্তব্য
দিল্লি পুলিশের দাবি, সম্পূর্ণ অভিযানটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবং সংযমের সাথে পরিচালিত হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং দ্রুত ওই এলাকা খালি করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *