ডিমের সেঞ্চুরির পথে? কেন আকাশছোঁয়া দাম, কবে মিলবে স্বস্তি?

সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে এখন প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম। সারাদেশে ডিমের দাম ক্রমাগত বেড়ে এখন খুচরা বাজারে একটি ডিমের দাম পৌঁছেছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকায়। পোল্ট্রি শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে প্রধান কারণ:
পোল্ট্রি ফিডের সংকট: মুরগির খাবারের প্রধান উপাদান হলো ভুট্টা (৫৫%) এবং সয়াবিন মিল (২২%)। মার্চ মাস থেকে ভুট্টার দাম ৩৫% এবং সয়াবিন মিলের দাম ৬৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও ফিডে ব্যবহৃত অ্যামিনো অ্যাসিডের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ।
ইথানল ও বৈশ্বিক সংকট: ইথানল কোম্পানিগুলোর ভুট্টার ওপর বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে আমদানি ও সরবরাহের চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: অনিয়মিত বর্ষা ও খরিফ-রবি শস্যের উৎপাদনে অনিশ্চয়তা পোল্ট্রি পণ্যের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে গত বছর সয়াবিন উৎপাদন ২০% কম হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তীব্র তাপপ্রবাহ: দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে এবং উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২৫০-২৬০ টাকায় পৌঁছে দিয়েছে।
কলকাতার চিত্র:
ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় ডিমের পাইকারি দাম বেড়েছে অনেকটা। ২০২৫ সালে যা ছিল ৫.৭৫ টাকা, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭০ টাকায়।
কবে কমবে দাম?
পোল্ট্রি শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই মাসের শেষভাগ থেকে ডিমের দাম কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে। মূলত শ্রাবণ মাসে উত্তর ভারতে নিরামিষাশী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডিমের চাহিদা হ্রাস পায়, যা দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে বর্ষা স্বাভাবিক না হলে এবং কাঁচামালের দাম না কমলে আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষকে এই চড়া দামেই পোল্ট্রি পণ্য কিনতে হবে।