ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যে গাঁজার বড় চালান! আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ১০৪ কেজি মাদক

ঝাড়খণ্ড সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মাদকের একটি বিশাল চালান পাচারের ছক শেষ মুহূর্তে ভেস্তে দিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। শুক্রবার গভীর রাতে কল্যাণেশ্বরী এলাকায় চালানো অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১০৪ কিলোগ্রাম গাঁজা। এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কীভাবে ধরা পড়ল পাচারকারীরা?
পুলিশ সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ড থেকে মাদক রাজ্যে ঢুকতে পারে—এমন গোপন তথ্য ছিল কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে নাকা তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দারা। গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে একটি একেবারে নতুন, নম্বরপ্লেটবিহীন চারচাকা গাড়ি আসতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া মাত্রই চালক গাড়ি ফেলে অন্ধকারে চম্পট দেয়।

কী মিলল গাড়ির ভেতর?
গাড়িটিতে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। ১০০টি আলাদা প্যাকেটে ভরা প্রায় ১০৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পরিচয় গোপন রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবেই নম্বরপ্লেট ছাড়া নতুন গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

পাচারচক্রের সন্ধানে পুলিশ:
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর পেছনে একটি বড়সড় আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্র সক্রিয় বলে ধারণা পুলিশের। এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা বাজেয়াপ্ত গাড়িটির মালিকানা খতিয়ে দেখছি। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল টাওয়ারের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পলাতক চালক ও পাচারচক্রের মূল মাথাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

কড়া নজরদারি সীমান্তে:
ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তকে মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা রুখতে কমিশনারেট এবার বাড়তি সতর্ক। আগামী দিনে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। এমনকি প্রয়োজনে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর।

১০৪ কিলোগ্রাম গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাকে কমিশনারেটের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশের অন্দরমহলের খবর, আসল সাফল্য মিলবে তখনই, যখন এই চক্রের মূল হোতারা শিকলে বন্দি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *