লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় আমির খান! ‘লাভ জিহাদ’ ইস্যুতে এল চরম হুঁশিয়ারি

বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খানকে নিয়ে এবার তীব্র চাঞ্চল্য। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দলের নাম করে অভিনেতা আমির খানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে দুই ব্যক্তির একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং একটি অডিও ক্লিপ ঘিরে নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও এই অডিও বা পোস্টের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুমকির নেপথ্যে কী?
ভাইরাল অডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আমির খানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরজু বিষ্ণোইয়ের নামে প্রচারিত অডিওতে দাবি করা হয়েছে, “আমির খানের মতো যারা আমাদের দেশে ‘লাভ জিহাদ’-এর নামে সংস্কৃতির পরিপন্থী কাজ করছেন, তাঁদের আমরা বরদাস্ত করব না। যেখানেই আমরা তাঁদের পাব, এমন শিক্ষা দেব যা তাঁরা মনে রাখবে।” পোস্টটিতে তারকাখ্যাতির আড়ালে এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরের একটি ঘটনার উল্লেখ করে অভিযুক্তদের আড়াল করা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আমির খানের প্রতিক্রিয়া:
এই ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও আমির খানকে ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। সেই সময়েই অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁর পরিবার অত্যন্ত উদার ও সর্বজনীন মানসিকতার। তাঁর দুই বোন এবং মেয়ের বিয়ে হয়েছে হিন্দু পরিবারের সঙ্গে, আবার তাঁর কাজিন বিয়ে করেছেন খ্রিস্টান নারীকে। অভিনেতা সাফ জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের কোনো বিয়েতেই ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েনি। তিনি বলেন, “আমাদের বিয়েগুলো হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায় (সিভিল ম্যারেজ)। গৌরী বা কিরণ কিংবা রিনা—কারও ক্ষেত্রেই ধর্ম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেনি। সময়টা যেন এখন আরও কৌতুকপূর্ণ হয়ে উঠছে।”
নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ:
বলিউডের সুপারস্টারদের বিরুদ্ধে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম করে হুমকির ঘটনা এই প্রথম নয়। অতীতেও একাধিক তারকা এই দলের নিশানায় এসেছেন। যদিও এই নির্দিষ্ট হুমকিটি কতটা বাস্তব বা এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে এখনও পুলিশের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আমির খানের মতো প্রথম সারির তারকার বিরুদ্ধে এ ধরনের হুঁশিয়ারি আসায় অনুরাগীমহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর পরিবার নিয়ে যে ধরণের ভিত্তিহীন প্রচার চালানো হচ্ছে, এই হুমকি তাকেই আরও উসকে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই ঘটনার পর আমির খানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হতে পারে।
সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সত্যতা সংবাদ সংস্থা বা আমাদের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়নি।