সরকারি জমিতে তৃণমূলের পার্টি অফিস! জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নোটিশ মহকুমাশাসকের

শহরে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা যখন ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই খোদ জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় স্টেশন রোডের ওই কার্যালয়ে নোটিশ ঝুলিয়েছে সদর মহকুমাশাসকের দফতর।
কী অভিযোগ?
অভিযোগ, ২০১৪ সালে সৈকত চট্টোপাধ্যায় যখন জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন, তখন শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশন রোডে বিচারকদের আবাসনের পাশে ওই জায়গায় দলীয় কার্যালয়টি গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে যুব সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেও, জায়গাটির নাম পরিবর্তন করে তা তৃণমূলের জেলা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি নব্যেন্দু মৌলিক এই নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চলছে। প্রশাসন যেন অবিলম্বে আইন মেনে এই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেয়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রশাসন এই নোটিশ জারি করেছে। মহকুমাশাসকের দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩ অগস্টের মধ্যে নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট দফতরে হাজির হয়ে উপযুক্ত নথিপত্রসহ নিজের বক্তব্য পেশ করতে হবে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ জবাব না পাওয়া গেলে সরকারি আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কী বলছেন চেয়ারম্যান?
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি এখনও কোনো নোটিশ হাতে পাইনি। নোটিশ পেলে আইনি পথে যা করার করব। ওই অফিস আমার নামে নয়, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
জলপাইগুড়ি শহরে যখন পুরসভা একের পর এক অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালাচ্ছে, সেই সময়ে চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডেই অবস্থিত দলীয় কার্যালয় নিয়ে এই জমি বিবাদ তৃণমূল কংগ্রেসকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিরোধী শিবিরের মতে, এটি ‘আইন সবার জন্য সমান’—এই দাবির এক বড় পরীক্ষা। এখন ৩ অগস্টের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে জেলাবাসী। ঘটনাটি যে আগামী দিনে জলপাইগুড়ির রাজনীতিতে বড় বিতর্কের কারণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।