দূষণমুক্ত রেলের পথে ভারত! জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে শুরু হল হাইড্রোজেন ট্রেনের যাত্রা

ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম হাইড্রোজেন প্যাসেঞ্জার ট্রেনের, যা পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু কীভাবে এই ট্রেন চলে এবং সাধারণ ট্রেনের থেকে এটি কতটা আলাদা? এই প্রযুক্তিগত দিকগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? রেলমন্ত্রীর কথায়, এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। পুরো প্রযুক্তি ও এর ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস’ (IP Rights) এখন ভারতের হাতে। এই ট্রেনের কাজ করার পদ্ধতি অনেকটা এরকম:

  • ইলেক্ট্রোলাইসিস: জল থেকে ইলেক্ট্রোলিসিস পদ্ধতির মাধ্যমে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়।

  • জ্বালানি কোষ (Fuel Cell): উৎপাদিত হাইড্রোজেন জ্বালানি কোষে পাঠানো হয়, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়।

  • চালিকা শক্তি: এই বিদ্যুৎ ট্রেনের মোটরগুলিকে শক্তি জোগায়, ফলে ইঞ্জিন সচল হয়।

ধোঁয়া নেই, দূষণও নেই পেট্রল বা ডিজেল চালিত ট্রেনের সঙ্গে এর মূল তফাৎ হলো এর নির্গমন। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ট্রেন থেকে কোনো ধোঁয়া বের হয় না। এর একমাত্র উপজাত হলো জল, যা পরিবেশের জন্য কোনো ক্ষতিকারক নয়।

নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছেন মন্ত্রী? অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে হাইড্রোজেন কতটা নিরাপদ। রেলমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিখ্যাত নিরপেক্ষ সংস্থা ‘টিইউভি এসইউডি’ (TUV SUD) এই ট্রেনের সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করেছে। ট্রেনে এমন উন্নত সেনসর বসানো আছে, যা হাইড্রোজেনের ঘনত্ব বা লিক হওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে পারে। হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ০.২৫ শতাংশের নিচে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা একে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করেছে।

কেন ভারত এগিয়ে? বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি দেশ যেমন ইউরোপের একটি দেশ, চীন এবং আমেরিকায় এই প্রযুক্তি রয়েছে। তবে রেলমন্ত্রীর মতে, এই প্রযুক্তির আইপি রাইটস নিজেদের কাছে থাকায় ভবিষ্যতে ভারত এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করতে পারবে।

কবে থেকে যাত্রা? বর্তমানে হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই ট্রেন চালানো শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশাবাদী, এই হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রেল পরিবহণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও বড় বিপ্লব ঘটাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *