ব্যক্তিগত পছন্দে রাষ্ট্র নাক গলাবে না! পর্নোগ্রাফি মামলায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

পর্নোগ্রাফি দেখা বা এর ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের কাজ নয়। একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) খারিজ করে আদালত জানিয়ে দিল, তারা ‘নৈতিক পুলিশের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চায় না।

আদালতের রায়ে যা বলা হয়েছে: আবেদনকারী দাবি করেছিলেন, পর্নোগ্রাফি সমাজের নৈতিকতা ও যুব সমাজের মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তাই এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। তার জবাবে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে:

  • প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের ব্যক্তিগত পরিসরে কী দেখবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের কাজ নয়।

  • নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

  • তবে, শিশু পর্নোগ্রাফি, নারী নির্যাতন কিংবা কোনো অসামাজিক ও বেআইনি কনটেন্টের ক্ষেত্রে বর্তমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত কোনোভাবেই এসব অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না।

আলোচনার কেন্দ্রে রায়: আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

  • এক পক্ষের মত: প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের এই যুগে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই নিষেধাজ্ঞার বদলে শিক্ষা ও সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

  • অন্য পক্ষের উদ্বেগ: সমাজকর্মী ও অভিভাবকদের বড় একটি অংশ এই রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, অবাধ পর্নোগ্রাফির ফলে তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরকারি অবস্থান: আদালতের এই রায়কে সম্মান জানিয়েছে সরকার। তবে তারা জানিয়েছে যে, দেশের আইন অনুযায়ী শিশু পর্নোগ্রাফি এবং বেআইনি কনটেন্টের বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা আগের মতোই কঠোর থাকবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সন্দেহভাজন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়িত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আবারও তা মনে করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *