পাল্টে গেল সমীকরণ! ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারে গঙ্গাসাগর মেলার ভাগ্য খুলতে নড়েচড়ে বসল নবান্ন

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে নতুনের পথে নবান্ন। অতীতে বহুবার কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের জেরে যে দাবি ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার ক্ষমতায় আসতেই সেই দাবি বাস্তবায়নে তৎপর হলো রাজ্যের বর্তমান সরকার। গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’-র স্বীকৃতি দিতে ও তীর্থক্ষেত্রের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রককে পরপর দু’টি চিঠি পাঠালো নবান্ন।

চিঠিতে কী জানিয়েছে রাজ্য? রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ডঃ সৌমিত্র মোহন গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিবকে প্রথম চিঠিটি পাঠান। চিঠিতে গঙ্গাসাগরকে ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে জাতীয় মেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • গঙ্গাসাগরের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

  • প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও সাধু-সন্তদের সমাগম ঘটে এখানে।

  • মেলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, লোকশিল্পের প্রচার এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন।

পর্যটন মন্ত্রকেও আবেদন: প্রথম চিঠির ঠিক পরের দিনই, ১৫ জুলাই পর্যটন মন্ত্রকের সচিবকে দ্বিতীয় চিঠিটি পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, সেখানেও তীর্থযাত্রীদের সুবিধা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছে।

কেন এই উদ্যোগ? তৃণমূল সরকারের আমলে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছিল, কিন্তু অভিযোগ ছিল যে কেন্দ্র বারবার সেই দাবি উপেক্ষা করেছে। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার মনে করছে, নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়ানো সম্ভব। গঙ্গাসাগরকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানো এবং পরিকাঠামো উন্নত করাই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।

এখন দেখার, নবান্নর এই জোড়া চিঠির ভিত্তিতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয় এবং গঙ্গাসাগর মেলা জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পায় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *