সকাল সকাল খালি পেটে গ্রিন টি খাচ্ছেন? অজান্তেই লিভার ও পাকস্থলীর কী মারাত্মক ক্ষতি করছেন জেনে নিন!

আজকের দিনে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের দৈনন্দিন লাইফস্টাইলের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে গ্রিন টি (Green Tea)। শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে এবং মেদ ঝরিয়ে ফিট থাকতে অনেকেই দিনের শুরুটা করেন এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গ্রিন টি-তে চুমুক দিয়ে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই পানীয়টির গুণাগুণ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই একেবারে খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস হিতে বিপরীত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই খালি পেটে এই চা পান করার পর তীব্র বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা, পেট ফাঁপা বা গ্যাস্ট্রিকের মারাত্মক অস্বস্তি দেখা দেয়।

কেন সুস্থ হতে গিয়ে উল্টে পেটের রোগে কাবু হচ্ছেন মানুষ? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষকরা এর পেছনে থাকা আসল সত্যটি সামনে এনেছেন।

খালি পেটে গ্রিন টি কেন বিষের মতো কাজ করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টি-তে প্রাকৃতিকভাবে কিছু উপাদান থাকে যা খালি পেটে পাকস্থলীতে প্রবেশ করলেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ট্যানিনের কারসাজি: গ্রিন টি-তে উচ্চমাত্রায় ‘ট্যানিন’ (Tannin) নামের একটি উপাদান থাকে। খালি পেটে এটি শরীরে গেলে পাকস্থলীর ভেতরের সংবেদনশীল আস্তরণে তীব্র জ্বালাভাব তৈরি করে এবং নিমেষেই অ্যাসিডের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলেই শুরু হয় বমি বমি ভাব ও বুক জ্বালা।

ক্যাফেইনের ধাক্কা: গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাফেইন পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদন উদ্দীপিত করে। ফলে যাদের আগে থেকেই গ্যাস-অম্বল, গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার পর তাঁদের উপসর্গ মারাত্মক রূপ ধারণ করে।

বিজ্ঞান কী বলছে? গ্রিন টির আসল সীমানা কতটুকু?
২০২০ সালে বিশ্ববিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’ (European Journal of Clinical Nutrition)-এ প্রকাশিত একটি বৃহৎ বিশ্লেষণধর্মী গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সঠিক উপায়ে গ্রিন টি পান করলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ক্যানসার প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গবেষকরা একটি চমকপ্রদ তথ্যও উল্লেখ করেছেন—সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে গ্রিন টি খেলেই হু হু করে ওজন কমে বা ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ওজন কমানো বা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গ্রিন টি ঠিক কতটা সরাসরি কার্যকর, সে বিষয়ে এখনো কোনো অকাট্য বা পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিপদ এড়াতে চিকিৎসকদের গাইডলাইন:
১. খালি পেটে ‘না’ বলুন: সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার ভুল অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন। সামান্য হালকা কিছু নাস্তা (যেমন- দুটো বিস্কুট বা মুড়ি) খাওয়ার পর তবেই এই চা পান করুন।
২. পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন: ঘুম থেকে উঠে বা সারাদিনে ঘনঘন কাপের পর কাপ গ্রিন টি খাওয়া বন্ধ করুন। দিনে সর্বোচ্চ ২-৩ কাপের বেশি গ্রিন টি খাওয়া উচিত নয়।
৩. শরীরের ভাষা বুঝুন: যদি দেখেন গ্রিন টি খাওয়ার পর প্রায়ই আপনার বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা হচ্ছে, তবে অবিলম্বে এর পরিমাণ কমিয়ে দিন অথবা কম ক্যাফেইনযুক্ত হালকা কোনো হার্বাল টি বেছে নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *