৪০ পেরোলেই ত্বক ঝুলে যাচ্ছে? দামি ক্রিম বাদ দিয়ে ভাতের এই ফেলনা জিনিসটি মাখলেই ফিরবে ২০-এর চমক!

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই কোলাজেনের (Collagen) উৎপাদন কমতে শুরু করে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। চামড়ার ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়, ফলে দেখা দেয় বলিরেখা (Wrinkles), সূক্ষ্ম রেখা (Fine Lines), কালচে দাগ এবং ত্বক ঝুলে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর ত্বকের এই টানটান ভাব ধরে রাখতে অনেকেই হাজার হাজার টাকা খরচ করে দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, নামী কেমিক্যাল সিরাম কিংবা পার্লারে গিয়ে ফেসিয়ালের ওপর নির্ভর করেন। অথচ আমাদের রান্নাঘরেই প্রতিদিন এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান অনায়াসে ফেলে দেওয়া হয়, যা ত্বকের বয়স ধরে রাখতে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। আর সেই উপাদানটি হলো প্রতিদিনের পরিচিত ‘ভাতের মাড়’।

রূপচর্চায় চালের জল কিংবা ভাতের মাড়ের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। কোরিয়ান স্কিন কেয়ারে (Korean Skincare Regime) বহু বছর ধরেই সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাতের মাড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, অ্যামিনো অ্যাসিড, জরুরি খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ত্বককে ভেতর থেকে কোমল ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

এই ভাতের মাড়ের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল, ভিটামিন ই এবং সামান্য কাঠবাদামের তেল মিশিয়ে কীভাবে ঘরেই বানিয়ে নেওয়া যায় একটি দুর্দান্ত ‘অ্যান্টি-এজিং প্যাক’, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

জাদুকরী প্যাকটি তৈরির সহজ নিয়ম:
ভাত রান্নার সময় কিছুটা ঘন মাড় বা ফ্যান (২ টেবিল চামচ) আলাদা করে সরিয়ে রাখুন এবং এটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন।

এবার সেই ঠান্ডা মাড়ের মধ্যে ১ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল যোগ করুন।

এর সাথে মিশিয়ে নিন কয়েক ফোঁটা খাঁটি কাঠবাদামের তেল (Almond Oil) এবং একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের (Vitamin E Capsule) ভেতরের তেল।

সবকটি উপকরণ একটি চামচ দিয়ে খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন, যতক্ষণ না এটি একটি মসৃণ ও ক্রিমের মতো মিশ্রণে পরিণত হচ্ছে।

বিশেষ টিপস: যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক (Dry Skin), তারা এই মিশ্রণে ১ চা-চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। মধু ত্বকের গভীরের আর্দ্রতা লক করতে সাহায্য করে।

ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি:
১. প্যাকটি লাগানোর আগে মুখ খুব ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। কোনো মৃদু ফেসওয়াশ বা ঘরোয়া বেসন দিয়ে মুখ ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন।
২. এবার এই তৈরি করা প্যাকটি পুরো মুখ এবং গলায় সমানভাবে লাগান। তবে খেয়াল রাখবেন, চোখ এবং ঠোঁটের চারপাশের সংবেদনশীল অংশ যেন এড়িয়ে যাওয়া হয়।
৩. প্যাকটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে এলে হালকা ঈষদুষ্ণ গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৪. মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ত্বকের উপযোগী কোনো ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন এটি ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের জন্য কেন এটি এত উপকারী?
ভাতের মাড়ের পুষ্টি উপাদান ত্বকের চামড়া কুঁচকে যাওয়া রোধ করে। অ্যালোভেরা জেলের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বককে শান্ত রাখে এবং ফাইন লাইনস দূর করে। এছাড়া ভিটামিন ই ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে বাঁচায় এবং কাঠবাদামের তেল ত্বককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।

বিশেষ সতর্কবার্তা ও সম্পাদকীয় পরামর্শ:
যদিও এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি, তবুও প্রথমবার মুখে ব্যবহারের আগে হাতের চামড়ায় বা কানের পেছনে অল্প একটু লাগিয়ে ‘প্যাচ টেস্ট’ (Patch Test) করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল কিংবা কোনো রকমের চর্মরোগ রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, এই ঘরোয়া উপায়টি কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। চিরতরুণ ত্বক পেতে হলে এই পরিচর্যার পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা, অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো, রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলা সমানভাবে জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *