গুজরাটে বাড়ছে সিংহ-আতঙ্ক! ৬ জনের মৃত্যুতে ‘ম্যান-ইটার’ তকমা, নেপথ্যে কি মানুষের বাড়াবাড়ি?

গুজরাটে গত এক মাসে এশীয় সিংহের আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে অন্তত ৯টি হামলার ঘটনায় ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় গুজরাট বনদপ্তর এখন ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (WII)-এর শরণাপন্ন হয়েছে, যাতে সিংহের এই অস্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তনের কারণ সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়।

সিংহ কি এখন ‘ম্যান-ইটার’?
ইতিমধ্যেই বনকর্মীরা ৩১টি সিংহকে চিহ্নিত করে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ৭টি সিংহকে ‘ম্যান-ইটার’ বা মানুষখেকো হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী, এদের আর বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বন দপ্তরের প্রধান চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন জয়পাল সিং জানিয়েছেন, সব হামলার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের হাতে সিংহ উত্ত্যক্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। উল্লেখ্য, একটি সিংহ ভিকটিমকে ‘খেয়ে ফেলেছে’ বলেও রিপোর্ট এসেছে, যা এই প্রজাতিটির স্বভাবের সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না।

অলৌকিক প্রাণরক্ষা ও মানবিকতার নজির
সম্প্রতি ভাবনগরের কালুভাই পারমার নামে এক রাখালের সিংহের ওপর আক্রমণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সিংহটি আক্রমণ করলে তিনি এক হাতে সিংহের মুখ চেপে ধরে অন্য হাতে তার গলায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। আশ্চর্যজনকভাবে সিংহটি তাঁকে ছেড়ে দেয়। ভাঙা আঙুল ও ঘাড়ে আঘাত নিয়েও কালুভাইয়ের বক্তব্য, “প্রাণীটি আমাদের তখন আক্রমণ করে, যখন আমরা তাকে বিরক্ত করি।”

সোশ্যাল মিডিয়া ও মানুষের বাড়াবাড়িই কি কাল?
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সিংহের চেয়ে মানুষের আচরণই এই সংঘাতের জন্য বেশি দায়ী। সাবেক চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট দুষ্মন্ত ভাসাভাদা সরাসরি আঙুল তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে। তাঁর মতে:

সেলফি ও রিলস: মানুষ এখন সাহসিকতা দেখাতে সিংহের খুব কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও তুলতে চাইছে, যা বন্যপ্রাণীকে আক্রমণাত্মক করে তুলছে।

বসতি বিস্তার: সিংহের কোর এরিয়া ছাড়িয়ে মানুষ এখন তাদের অভয়ারণ্যে ঢুকে পড়ছে।

ভুল তকমা: বন দপ্তরের অনেকে ‘ম্যান-ইটার’ তকমা দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলছেন, একবার আক্রমণ করলেই একটি প্রাণীকে মানুষখেকো বলা ঠিক নয়, বিশেষ করে যদি সেটি উস্কানির কারণে ঘটে থাকে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব
২০২০ সালে গুজরাটে সিংহের সংখ্যা ছিল ৬৭৪, যা ২০২৫ সালে ৮৯১-এ পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০টি সিংহ গির অরণ্যের বাইরে লোকালয়ের কাছাকাছি বসবাস করছে। ফলে মানুষের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।

WII-এর সমীক্ষা এখন মূল লক্ষ্য—সিংহের আচরণের এই পরিবর্তন কি প্রাকৃতিক, নাকি কেবল মানুষের ক্রমাগত বিরক্ত করার ফল? আপাতত, প্রশাসনের কড়া নির্দেশ, বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি গিয়ে দুঃসাহস দেখানো থেকে বিরত থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *