‘মদনের মন পড়ে আছে অন্য দিকে!’ শিবির বদলের পরেও কি যোগাযোগ রাখছেন বিধায়ক?

মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গ ত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কিন্তু শুক্রবারের দৃশ্যপটে ফের রহস্যের হাতছানি। কুণাল ঘোষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মদন মিত্রের সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ তুঙ্গে।

কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি মদন মিত্রের শিবির বদলের পরেও তাঁর সঙ্গে কুণাল ঘোষের এই সাক্ষাৎ নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “মদনদা শারীরিক ভাবে ওই দিকে গিয়েছেন, কিন্তু তাঁর মন পড়ে আছে অন্য দিকে। উনি নিজেও জানেন আসল ঘটনা কী। চাপের মুখে পড়ে (ED নোটিশের প্রসঙ্গ টেনে) উনি ওই দিকে গিয়েছেন। আমরা চাই উনি ভালো থাকুন। ২-৪ দিন যা প্রাণ চায় করুক। আমরা তো জানিই, আমাদের একটা লোক ওদের দলে রইল।”

মমতার সেই তত্ত্ব কি সত্য? প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যারা ভয়ে দল ছাড়ছেন, তাঁরা আসলে তাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে চলছেন। অনেকের ধারণা, মদন মিত্রের এই দলবদল নিছকই কৌশলগত, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কালীঘাটের সঙ্গে তাঁর সমঝোতা হয়েছে। যদিও মদন মিত্র সরাসরি এই দাবি স্বীকার করেননি।

মদন মিত্রের সাফাই ও অবস্থান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র অবশ্য তাঁর নতুন অবস্থানের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, “উনি (মমতা) নিজেই বলেছেন যাঁদের ভয় আছে, তাঁরা চলে যাক। উনিই আমায় তাড়িয়েছেন, আমি এসেছি। কালীঘাট থেকে তৃণমূল যেভাবে চলছে, তাতে বিজেপিকে রোখা যাবে না। ঋতব্রতর নেতৃত্বে যে লড়াই হচ্ছে, তা দেখেই আমি এদিকে এসেছি।”

একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে মদন বলেন, “শুভেন্দুর তো ফ্যান হবেই। রাজ্যের যুব নেতাদের মধ্যে শুভেন্দু অন্যতম শ্রেষ্ঠ গরিমা অর্জন করেছে।” তবে ED সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, এটি একটি তদন্তকারী সংস্থা, তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মদন মিত্রের মতো পোড় খাওয়া নেতা হঠাৎ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেলেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যে এখনও সুসম্পর্ক বা ‘গোপন বোঝাপড়া’ রয়ে গেছে, কুণাল ঘোষের মন্তব্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, কামারহাটির এই বিধায়ক শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত শিবিরের দাপট দেখান নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইশারাতেই ফের ‘ঘর ওয়াপসি’ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *