শিক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি! APAAR আইডি বাধ্যতামূলক নয়, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এপিএএআর’ (APAAR) আইডি তৈরি করা নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল, তাতে বড়সড় ইতি টানল সুপ্রিম কোর্ট। এক আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য এপিএএআর আইডি তৈরি করা বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। এই আইডি তৈরির সম্মতিপত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অপট-আউট’ (Opt-out) বা বেরিয়ে আসার স্পষ্ট সুযোগ থাকতে হবে বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই নির্দেশ?
বাধ্যতামূলক আধার-সংযুক্ত এপিএএআর আইডি প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, এই নিয়ম শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে, শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো আইডি বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ায় তথ্য সুরক্ষার (Data Privacy) উদ্বেগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সিবিএসই (CBSE)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এপিএএআর (APAAR) আইডি আসলে কী?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এক দেশ, এক শিক্ষার্থী আইডি’ উদ্যোগের অঙ্গ এই এপিএএআর আইডি। এটি মূলত:
ডিজিটাল পরিচয়: প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ১২-সংখ্যার একটি অনন্য ডিজিটাল আইডি।
তথ্য ভাণ্ডার: শিক্ষার্থীর প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত যাবতীয় স্কুল রেকর্ড, মার্কশিট, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য একাডেমিক নথি এখানে সংরক্ষিত থাকবে।
উদ্দেশ্য: স্কুল থেকে ঝরে পড়া পড়ুয়াদের ওপর নজর রাখা এবং ভবিষ্যতে এক ক্লিকেই সমস্ত নথি অ্যাক্সেস করার সুবিধা প্রদান করা।
বোর্ড পরীক্ষা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এতদিন সিবিএসই (CBSE) এবং বিভিন্ন রাজ্য শিক্ষা বোর্ড নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এই আইডি বাধ্যতামূলক করেছিল। সিবিএসই-র নিয়ম অনুযায়ী, এপিএএআর আইডি ছাড়া বোর্ড পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব ছিল না। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা চাইলে এই আইডি তৈরি না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। সিবিএসই ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।