ভারতের বুকেই ছুটবে বুলেট ট্রেন! ২০২৭ সালেই কি স্বপ্নপূরণ? জেনে নিন লেটেস্ট আপডেট

ভারতীয় রেলের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে আরও এক পালক। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ও হাইড্রোজেন ট্রেনের সাফল্যের পর, এবার দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রে ভারতের প্রথম ‘বুলেট ট্রেন’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালেই ভারতে হাই-স্পিড ট্রেন পরিষেবা চালু হতে পারে বলে আশার আলো দেখিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পের চালচিত্র ও লক্ষ্য:
ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড-এর তত্ত্বাবধানে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এগিয়ে চলেছে। জাপানের বিখ্যাত ‘শিনকানসেন’ (Shinkansen) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মুম্বই-আহমেদাবাদ রুটে বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য জাপান সরকার বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। মাত্র ০.১ শতাংশ সুদে প্রায় ৭৯,০০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার পরিশোধের সময়সীমা ৫০ বছর। শুধু অর্থ নয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ১,০০০-এরও বেশি ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষিত করার দায়িত্বও নিয়েছে জাপান।
দ্রুততম সফর:
বুলেট ট্রেনের প্রধান আকর্ষণ এর গতি। জানা গেছে, ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। এই পরিষেবা চালু হলে মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ যেতে যে সময় আগে ৫-৬ ঘণ্টা লাগত, তা কমে মাত্র ২ ঘণ্টায় নেমে আসবে। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে এই হাই-স্পিড ট্রেনের কোচ নির্মাণের কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সালের গোড়ার দিকে জাপান থেকে ই১০ সিরিজের অত্যাধুনিক ট্রেনও ভারতে এসে পৌঁছাবে।
১২টি স্টেশনে থামবে ট্রেন:
মুম্বই-আহমেদাবাদ রুটের প্রথম পর্যায়ে মোট ১২টি স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি হলো:
মুম্বই, থানে, বিরার, বৈসর, ভাপি, বিলমোরা, সুরাট, ভারুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, সবরমতী এবং আহমেদাবাদ।
রেল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বুলেট ট্রেন চালু হলে ভারতের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। শুধু সময় বাঁচানোই নয়, উন্নত যাত্রী পরিষেবা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে এই প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।