বিশ্ব বাজারে রক্তক্ষয়ী পতন, উল্টো পথে হেঁটে রেকর্ড উত্থান ভারতীয় শেয়ার বাজারে!

বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে যখন বড়সড় ধস ও অস্থিরতা চলছে, তখন ব্যতিক্রমী ছবি দেখা গেল ভারতের শেয়ার বাজারে। বিশ্ব বাজারের মন্দার পূর্বাভাস উপেক্ষা করে শুক্রবার সেনসেক্স এবং নিফটি শক্তিশালী উত্থান দেখিয়েছে। আইটি স্টকগুলোর ব্যাপক কেনাকাটা এবং প্রথম ত্রৈমাসিকের ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশায় চাঙ্গা হয়েছে বাজার।
দিনের বাজারের খতিয়ান:
দিনের শুরুতে সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৯৮৯-এর সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ২০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ২৪,২৫০-এর গণ্ডি পুনরুদ্ধার করেছে। নিফটি ও সেনসেক্স উভয়ই ১ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করেছে। তবে লার্জ-ক্যাপ সূচকগুলো বাড়লেও মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকে ০.৮ শতাংশের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
সূচকের উত্থানে নেপথ্যের কারণ:
আইটি খাতের জয়জয়কার: টেক মাহিন্দ্রার প্রথম ত্রৈমাসিকের নীট মুনাফা ২৮% বৃদ্ধি পেয়ে ১,৪৬৫ কোটিতে পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এছাড়া এইচসিএল টেকের নতুন সাত বছরের বড় চুক্তি বাজারকে বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে।
রিলায়েন্স ও জিও-র চমক: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, জিও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর নীট মুনাফা ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩০ কোটিতে পৌঁছানোয় এর শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।
ব্যাংকিং খাতের দাপট: ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এইচডিএফসি ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক এবং আইসিআইসিআই ব্যাংকের শেয়ার ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ব বাজারের ছবি:
ভারতের বাজারে এই তেজিভাব থাকলেও, বিশ্ববাজারে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। জাপানের নিক্কেই সূচক ৫ শতাংশ এবং তাইওয়ান ওয়েটেড ইনডেক্স ৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে। হংকং ও চীনের সূচকগুলোও ২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চিপ স্টকগুলোর দরপতনই এই বিশ্বব্যাপী মন্দার মূল কারণ।
রুপির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ বার্তা:
মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ১৪ পয়সা বেড়ে ৯৬.২৮-এ দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন একটি রেঞ্জ ব্রেকআউটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের বিশেষজ্ঞ আনন্দ জেমসের মতে, বাজার ২৩,৯৪০-২৪,২৭০ রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে এবং আগামী দিনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকারই ইঙ্গিত মিলছে।