“যদি না পারি, ভূত হয়ে ফিরে আসব!” অনশনে মৃত্যুশয্যায় সোনম ওয়াংচুক, উত্তাল দেশ

টানা ১৮ দিনের অনশনে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে জলবায়ু কর্মী ও সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুকের। নিট (NEET) সহ একাধিক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা এই আন্দোলন এখন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মৃত্যুশয্যায় থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলন থেকে সরতে নারাজ, যা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ভয়াবহ শারীরিক অবস্থা:
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দপকের ভিডিও বার্তায় উঠে এসেছে সোনমের বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহ বর্ণনা। জানা গেছে, তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, শৌচালয়ে যাওয়ার পথে দুবার পড়ে যেতে গিয়েও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। সমর্থকদের কাঁধে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে তাঁকে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে গ্লুকোজের অভাবের কারণে এখন পেশি ক্ষয় (Muscle Breakdown) শুরু হয়েছে, যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আদালতের হস্তক্ষেপ:
সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। তবে যাবতীয় চিকিৎসকদের পরামর্শ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধকে উপেক্ষা করে তিনি ঘোষণা করেছেন, “২০ জুলাই সংসদ অভিযান সফল করার জন্য আমি বেঁচে থাকবই, না পারলে ভূত হয়ে ফিরে আসব।”
রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ:
সোনমের এই অনশনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিরোধী নেতারা। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আন্দোলনস্থলে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন এবং প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাও সরকারকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও বিশাল দদলানি, সোনাক্ষী সিনহার মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এই লড়াইকে গণতন্ত্রের এক ‘বাস্তব পাঠ’ বলে অভিহিত করেছেন সোনম ওয়াংচুক। এখন ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।