ছেলের নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘রাম খান’! সোহেল-সীমার বিচ্ছেদের মাঝে উঠে এল অজানা এক গল্প

বিচ্ছেদের চার বছর পেরিয়ে গেলেও সোহেল খান এবং সীমা সাজদেহর সম্পর্কের সমীকরণ আজও বিনোদন দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি একটি রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে অতীতের এক অজানা গল্প শেয়ার করলেন সোহেল, যা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন ভক্তরা।
‘রাম খান’ থেকে ‘নির্বাণ’:
শো চলাকালীন সোহেল জানান, তাঁদের বড় ছেলে নির্বাণের জন্মের আগে দু’জনের মধ্যে একটি মজার চুক্তি ছিল—ছেলে হলে নাম রাখবেন সোহেল, আর মেয়ে হলে সীমা। সোহেলের কথায়, “আমি সব ধর্মকে সমান সম্মান করি, তাই ছেলের নাম রাখতে চেয়েছিলাম ‘রাম খান’। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর হাসপাতালের ঘোরে থাকা সীমা যখনই প্রথমবার জানতে চাইল ‘নির্বাণ কেমন আছে’, আমি তখনই বুঝে যাই নাম ও আগেই ঠিক করে ফেলেছে। সেই আবেগকে আমি সম্মান জানিয়েছিলাম।” আজ নির্বাণ নামের মতোই শান্ত ও স্থির স্বভাবের হয়েছে বলে গর্বের সঙ্গে জানান সোহেল।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দায় স্বীকার:
শোয়ে সোহেলকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখা যায়। ২৫ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সুন্দরীকে আমি ২৫ বছর কাছে পেয়েছি। আমাদের সম্পর্কের যদি কোনো ভুল থেকে থাকে, তবে তার পুরো দায় আমি নিতে রাজি।” নিজের অতীতের কঠিন সময়ের কথা স্বীকার করে সোহেল আরও বলেন, “সে সময় ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা এবং মানসিক অবসাদের কারণে আমি ভুল আচরণ করেছিলাম। আমি এমন একজন মানুষকে হারিয়েছি, যাকে সত্যিই ভালোবাসতাম।”
আলাদা হয়েও একাত্ম:
১৯৯৮ সালে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন সোহেল ও সীমা। দীর্ঘ ২৪ বছরের দাম্পত্যের পর ২০২২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদ তাঁদের বন্ধুত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সীমা বর্তমানে বিক্রম আহুজার সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেও, সোহেল ও সীমা তাঁদের দুই সন্তান নির্বাণ ও ইয়োহানের দায়িত্ব যৌথভাবেই পালন করছেন। সোহেলের মতে, সম্পর্কের চেয়েও সীমার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অনেক বেশি। এই রিয়েলিটি শো তাঁদের একে অপরের সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করার এক নতুন সুযোগ করে দিয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।