কথার চেয়ে ইমোজিই সেরা! আজ ‘বিশ্ব ইমোজি দিবস’, জেনে নিন এর সৃষ্টির রোমাঞ্চকর ইতিহাস

ডিজিটাল যুগে আমাদের চ্যাটিংয়ের ধরনকে চিরতরে বদলে দিয়েছে এক ছোট্ট ডিজিটাল প্রতীক—‘ইমোজি’। আনন্দ, দুঃখ, রাগ কিংবা ভালোবাসা—মনের সবটুকু অনুভূতি এখন অনায়াসে প্রকাশ করা যায় একটি ইমোজির মাধ্যমেই। এই ডিজিটাল প্রতীকের গুরুত্বকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ১৭ই জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব ইমোজি দিবস’।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ইমোজির যাত্রা?
ইমোজির সৃষ্টির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। ১৯৯৯ সালে জাপানি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ‘এনটিটি ডোকোমো’-তে কর্মরত ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতা প্রথম আধুনিক ইমোজি তৈরি করেন। সেই সময় মোবাইল মেসেজিং পরিষেবা চালু থাকলেও, লিখিত বার্তার মাধ্যমে মানুষের আবেগ সঠিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না। অনেক সময় বার্তার ভুল অর্থ বুঝে ফেলত অপর প্রান্তের মানুষটি। এই সমস্যা দূর করতেই কুরিতা প্রথম দফায় ১৭৬টি ইমোজি ডিজাইন করেন, যাতে শব্দ খরচ না করেই মনের ভাব সহজেই প্রকাশ করা যায়।
এক বৈশ্বিক ভাষায় পরিণত ইমোজি:
১২ পিক্সেলের সেই ছোট্ট প্রতীকগুলো আজ বিশ্বজুড়ে এক বৈশ্বিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম কিংবা এক্স—সবক্ষেত্রেই এখন ইমোজির জয়জয়কার। হাসিকান্না থেকে শুরু করে উৎসবের শুভেচ্ছা বা কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে হাজারো ইমোজির ভাণ্ডার এখন আমাদের নখদর্পণে।
শিগেতাকা কুরিতার হাত ধরে শুরু হওয়া এই ইমোজি আজ কোটি কোটি মানুষের ডিজিটাল জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। আজ বিশ্ব ইমোজি দিবসে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা মেতে উঠেছেন ইমোজির সেই বিবর্তনের ইতিহাস ও নানা মজার অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণায়।