‘আমার গ্রাম আমার কল্পনা’, এবার গ্রামবাসীই ঠিক করবেন উন্নয়নের পথ, মালদায় নতুন দিশা!

ভারতের মানচিত্রে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো এতদিন শহর থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্নই ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই ছবি বদলে ফেলার উদ্যোগ নিল প্রশাসন। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের কাছে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কেন্দ্রের ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম ২.০’ (Vibrant Villages Programme 2.0)-এর আওতায় আনা হলো মালদা জেলার ২৯টি গ্রামকে।
‘আমার গ্রাম আমার কল্পনা’: গ্রামবাসীর হাতেই উন্নয়নের চাবিকাঠি
সম্প্রতি মালদায় তিন দিনব্যাপী ‘আমার গ্রাম আমার কল্পনা’ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গ্রামবাসী নিজেরাই ঠিক করবেন তাদের এলাকায় কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন। ১২ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আদমপুর সীমান্তবর্তী গ্রামে এই কর্মসূচি চলে। সেখানে স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক ও জেলাশাসক শ্রী রাজ্যবির কাপুর সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দৈনন্দিন সমস্যার কথা শোনেন।
কী থাকছে এই বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে?
প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ‘ভিলেজ অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করা। এই প্রকল্পের প্রধান দিকগুলো হলো:
মৌলিক পরিষেবা: প্রতিটি গ্রামে নাগরিক পরিষেবার মান সুনিশ্চিত করা।
জীবিকা ও আয়: স্থানীয়দের আয়ের উৎস বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ইকো-ট্যুরিজমকে গুরুত্ব দেওয়া।
যোগাযোগ ব্যবস্থা: রাস্তাঘাট এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি বা ইন্টারনেট পরিষেবাকে উন্নত করা।
‘গ্রাম নয়, দেশের প্রবেশদ্বার’
মালদার জেলাশাসক শ্রী রাজ্যবির কাপুর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবধারা মেনেই এই গ্রামগুলোকে আর ‘শেষ প্রান্ত’ হিসেবে নয়, বরং দেশের ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। তৃণমূল স্তর থেকে মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি গ্রাম স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ মালদার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। এখন দেখার, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামের চেহারা কতটা বদলায়।