বালোচিস্তানে বড়সড় জঙ্গি হামলা! ৪৫ সেনা নিহতের দাবি বিএলএ (BLA)-এর

পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। মাস্তুঙ্গ জেলার খাদকোচা (Khadkocha) এলাকায় পাক সেনার কনভয় লক্ষ্য করে বড়সড় হামলার দাবি করেছে বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, এই পরিকল্পিত হামলায় ৪৫ জনেরও বেশি পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফে এই বিশাল ক্ষতির খবর স্বীকার করা হয়নি।
হামলার নেপথ্যে ‘ফতাহ স্কোয়াড’
বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, তাদের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ‘ফতাহ স্কোয়াড’ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। সেনা পরিবহণকারী বাস এবং তাদের সুরক্ষায় থাকা বাহিনীর ওপর একযোগে এই হামলা চালানো হয়। এমনকি, ঘটনাস্থলে সেনা বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যকারী দল পৌঁছালে তাদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয় বলে সংগঠনের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
কেন বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে পাক সেনা?
বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তানের ভৌগোলিক পরিবেশ বর্তমানে পাক সেনার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জনবিরল এবং দুর্গম মরু এলাকা হওয়ায়, সেনা চলাচলের জন্য মাত্র কয়েকটি প্রধান সড়কের ওপরই নির্ভর করতে হয় বাহিনীকে। ফলে বিদ্রোহীদের কাছে সেনাদের চলাচলের রুট এবং সময়সূচি অনেকটাই ‘প্রেডিক্টেবল’ বা অনুমেয় হয়ে পড়ে। উঁচু জায়গায় অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহীরা আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করার সুযোগ পায়।
গোয়েন্দা ব্যর্থতা নাকি জনরোষ?
এই ঘটনার পর পাক গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে:
নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব: স্থানীয় বালুচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ থাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন কোনো গোয়েন্দা সূত্র তৈরি করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্রোহীদের সুবিধা: অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্রোহীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের কারণে সেনা টহলের যাবতীয় তথ্য খুব সহজেই বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
এই ঘটনা বালোচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ফের এক অনিশ্চিত অবস্থায় নিয়ে গেল। সেনার ওপর এই ধরনের বড় হামলা সে দেশের সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। পাক প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্ব এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।