‘গুমটির ঠিকানায় কলেজ নয়!’ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেনিয়ম রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল উচ্চশিক্ষা দফতর। শুক্রবার সিউড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম আর বরদাস্ত করা হবে না। সেইসঙ্গে রাজ্যে নতুন শিল্পের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিনআপ’ অভিযান
মন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “গোয়ালঘর বা গুমটির ঠিকানায় বিএড, ফার্মেসি কিংবা ল’ কলেজ চলতে দেব না। যারা কাঁচা টাকার বিনিময়ে ডিগ্রি বিক্রি বা পরীক্ষা ব্যবস্থায় জালিয়াতি চালিয়ে এসেছে, সেই আইটিআর-পলিটেকনিক মাফিয়ারা সাবধান হয়ে যান।”
এই অনিয়ম রুখতে উচ্চশিক্ষা দফতর বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
সিএজি অডিট: রাজ্যের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫০০-র বেশি কলেজকে অডিটের আওতায় আনার জন্য কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এনওসি (NOC) যাচাই: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পেল এবং বর্তমানে পঠনপাঠন কীভাবে চলছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
নতুন অনুমোদন স্থগিত: অডিট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজকে অনুমোদন দেওয়া হবে না।
শিল্পের জোয়ারের ইঙ্গিত
এদিন সিউড়িতে ‘জনতার দরবারে’ হাজির হয়ে শিল্প বিনিয়োগ নিয়েও আশার কথা শোনান মন্ত্রী। বাম আমলের ইউনিয়ন দাপাদাপি এবং বিগত দেড় দশকের সিন্ডিকেট-কাটমানি সংস্কৃতির কারণে রাজ্যে শিল্প আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সরকারের কাজ হলো শিল্পকারখানার বাইরের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা, আর ভেতরে উৎপাদন বজায় রাখা। এবার এই ব্যবস্থাই বদলাবে।”
মন্ত্রীর দাবি, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে রাজ্যে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ আসতে চলেছে। বিনিয়োগকারীদের আর সিন্ডিকেট বা তোলাবাজির ভয় পেতে হবে না, যা পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন শিল্প জোয়ারের সূচনা করবে বলে আশা করছে প্রশাসন।