প্রতিভাবান শুটারের রহস্যময় অন্তর্ধান! মোবাইল বাড়িতে রেখেই নিখোঁজ কিশোরী, সিসিটিভি ফুটেজে শেষ দেখা

প্রতিভাবান শুটার দময়ন্তী সেনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়া এলাকায়। সেন্ট জনস ডায়োসেসনের দশম শ্রেণির এই ছাত্রী এবং জাতীয় স্তরের শুটিং ট্রায়ালে অংশ নেওয়া কিশোরীর খোঁজ না মেলায় দিশেহারা পরিবার। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশি তৎপরতায় এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি তাকে।

কী ঘটেছে সেদিন?
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ৯টা নাগাদ বাড়ির সামনের দোকানে দুধ নিতে বেরিয়েছিল দময়ন্তী। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তায় পড়েন বাবা-মা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট নাগাদ সে হাওড়া স্টেশনে প্রবেশ করছে। শেষবার তাকে সকাল ১০টা নাগাদ স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেখা গিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের মোবাইল ফোনটি বাড়িতেই রেখে গিয়েছে সে।

বাবার চোখে জল, ডায়েরিতে কী রহস্য?
দাময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানান, গত কয়েক বছর ধরে ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল দময়ন্তীর। মানসিক অবসাদ নিয়ে সে পড়াশোনা করলেও, নিয়মিত তা কাটিয়ে ওঠার উপায়ও সেখানে লিখে রাখত সে। বাবার দাবি, “নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনও সে ডায়েরি লিখেছে, কিন্তু তাতে অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি।”

অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এই ছাত্রী গত বুধবারও ভালো অনুশীলন করেছিল এবং বাবার কাছে পড়তেও বসেছিল। পরদিন এমনটা ঘটবে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না পেশায় শিক্ষক তার বাবা-মা।

পরিবারের উদ্বেগ
শহরের ব্যস্ত এলাকা হাওড়ার ৩০/২ উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তী। জাতীয় দলের সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্যে জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। তার প্রশিক্ষক বা পরিবারের সদস্যদের মতে, সম্প্রতি তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকত্ব দেখা যায়নি। স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতিভাবান এই কিশোরীর সন্ধান পেতে পুলিশের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *