মৃত্যুশয্যায় সোনম ওয়াংচুক! অনশনের ২০ দিনে শরীর নিজেই নিজেকে খাচ্ছে, চিকিৎসকদের চরম সতর্কবার্তা

প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত উদ্বেগ। টানা ২০ দিন অনশন চালানোর পর বর্তমানে তিনি কার্যত মৃত্যুশয্যায়। বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পে অটল এই যোদ্ধা।
শরীরের ভেতরে চলছে মরণ-সংগ্রাম
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে সোনমের জীর্ণ দশা স্পষ্ট। অনশনের আগে ও পরের চেহারার পার্থক্য দেখে আতঙ্কিত সমর্থকরা। ২৮ জুন থেকে চলা এই অনশনে সোনমের ওজন ৯ কেজি কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৬ কেজিতে। দুর্বলতা এতটাই যে, কারও সাহায্য ছাড়া উঠে দাঁড়ানো বা চলাফেরা করা তো দূরের কথা, শৌচাগারে যাওয়ার পথেও একাধিকবার জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছে তাঁর।
চিকিৎসকরা যা বলছেন
সোনমের স্বাস্থ্যের নিয়মিত পর্যবেক্ষণকারী চিকিৎসক ডা. সতীশ লাম্বার মতে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি জানান, শরীরের গ্লুকোজ রিজার্ভ শেষ হওয়ার পর এখন সোনমের শরীর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রথমে ফ্যাট এবং বর্তমানে পেশি ক্ষয় করতে শুরু করেছে। অর্থাৎ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সোনমের শরীরই যেন তাঁকে ভিতর থেকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁর কিটোন লেভেল ৩-এর সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও জল পানের পর তা কিছুটা কমেছে, কিন্তু ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের সাফ কথা—অনশন এভাবে চলতে থাকলে মাল্টি-অর্গান ফেলিওর বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
রাষ্ট্রের দাবি না মানা পর্যন্ত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও সোনম ওয়াংচুকের এই অটল অবস্থান এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন তাঁর এই অনশনের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।