জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেটে বড় পরিবর্তন! এবার থেকে মানতে হবে কড়া নিয়ম, কী কী বদলালো?

জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র (Birth and Death Certificate) নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরির প্রবণতা রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্য দফতর নতুন গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছে। ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস (অ্যামেডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ অনুযায়ী, এবার থেকে সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়মাবলীতে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন।
নাম ও ঠিকানা লেখার নতুন ফরম্যাট
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সার্টিফিকেটে নাম লেখার ক্ষেত্রে এখন থেকে কঠোর নিয়ম মানতে হবে। নামের ক্ষেত্রে শুধু ‘ফার্স্ট নেম’, ‘মিডল নেম’ এবং ‘লাস্ট নেম’ ফরম্যাট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো নামের সংক্ষিপ্ত রূপ (Short form/Abbreviation) ব্যবহার করা যাবে না। ঠিকানার ক্ষেত্রেও জেলা, ব্লক বা সাব-ডিভিশন, গ্রাম বা ওয়ার্ড, পিন কোড এবং বাড়ির নম্বর উল্লেখ করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক।
দেরিতে আবেদনের নতুন শর্তাবলী
সময়মতো জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্ত না করলে এখন থেকে গুণতে হবে বাড়তি সতর্কতা। নতুন নিয়মে:
৩০ দিন পর: আবেদন করলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমতি, সেলফ ডিক্লারেশন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
১ বছরের বেশি দেরি: হলে এসডিও (SDO), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা অনুমোদিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
২ বছরের বেশি দেরি: হলে আদালতের নির্দেশে অর্থাৎ বাধ্যতামূলকভাবে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।
বাড়ল জরিমানা ও ফি
সার্টিফিকেটের কপি সংগ্রহ বা বিলম্বে নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ফি এবং জরিমানার অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অ-প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে এবার থেকে এমবিবিএস কিংবা স্বীকৃত আয়ুষ চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনলাইন-অফলাইন সুবিধা
প্রক্রিয়াটি সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। নাগরিকরা এখন থেকে চাইলেই ইলেকট্রনিক উপায়ে বা ই-সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেটের বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম এড়াতে রাজ্য সরকার এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের আধিকারিকরা।