কে-পপ আইডল হওয়ার টোপ দিয়ে পাচারের ছক, শিলিগুড়ি থেকে উদ্ধার দুই নাবালিকা

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের একটি বড় ছক ভেস্তে দিল এনজেপি (NJP) থানা ও পুলিশের দল। মালদা জেলার বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে শিলিগুড়ি থেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিল পুলিশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘কে-পপ আইডল’ বা মডেলিংয়ের সুযোগ দেওয়ার নামে যে এই দুই নাবালিকাকে নিখোঁজ হতে প্ররোচিত করা হয়েছিল, তা এখন তদন্তে উঠে আসছে।

কীভাবে ফাঁদে পড়ল তারা? পুলিশি তদন্ত ও নাবালিকাদের বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে ‘পিন্টারেস্ট’ এবং অন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে ‘দিঘি সরকার’ নামে একজনের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় বিনোদন জগতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করে। তাদের একটি অনলাইন গ্রুপে (‘ডেমনস’) যুক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে তাদের যাতায়াতের রুট এবং লোকেশন শেয়ার করার মতো সংবেদনশীল নির্দেশ দেওয়া হতো।

ভুটান থেকে কোরিয়া! তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নাবালিকাদের পরিকল্পনা ছিল—প্রথমে ভুটান যাওয়া, আর সেখান থেকে তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাচার করা হতো। মডেলিং ও কোরিয়ান সংস্কৃতি শেখার আড়ালে এই পাচারের ছক অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল।

পুলিশের তৎপরতা ও উদ্ধার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত নজরদারি শুরু করে। বাস টার্মিনাসে ওই নাবালিকাদের আসার তথ্য পাওয়ার পর, এনজেপি থানার পুলিশ নওকাঘাট ও জলপাইমোড় এলাকায় বাসে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশের প্রশংসা করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নাবালিকাদের সঙ্গে কথাও বলেন।

পিছনে কি বড় কোনো চক্র? পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কারা এই জাল বিস্তার করে রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র বা সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনোদনের সুযোগের নামে নাবালিকাদের এই টার্গেট করা আবারও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এল। নিজের সন্তানের অনলাইন অ্যাক্টিভিটি বা মোবাইল ব্যবহারের দিকে নজর না রাখলে, যে কোনোদিন বড় কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এই ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *