২০ গাড়ি নিয়ে মহড়া, অস্ত্রের ভয়! গুরুগ্রামে ঠিকাদারকে ঘিরে ধরল কুখ্যাত গ্যাংস্টার কৌশল চৌধুরীর বাহিনী

প্রকাশ্য দিবালোকে ২০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে এসে এক ঠিকাদারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল কুখ্যাত গ্যাংস্টার কৌশল চৌধুরী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে গুরুগ্রামের নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর অন্দরে।

ঘটনার সূত্রপাত:
অভিযোগকারী ঠিকাদার মণীশ দাহিয়া জানিয়েছেন, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ গুরুগ্রামের ধনওয়াপুর এলাকায় তার কর্মস্থলে হঠাৎই কালো রঙের এক ডজন মাহিন্দ্রা স্করপিও-সহ প্রায় ২০টি গাড়ি এসে পৌঁছায়। গাড়ি থেকে প্রায় ৫০-৬০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী নেমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মণীশ দাহিয়া জানান, তিনি গুরুগ্রামের সেক্টর ১০৮-এ সেন্ট্রাল পার্ক এবং সেক্টর ১০৬-এ এলান গ্রুপের বিভিন্ন প্রজেক্টে মাটি ও জল সরবরাহের কাজ করেন।

ঠিকাদারের অভিযোগ:
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে মণীশ দাবি করেছেন, দুষ্কৃতীরা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “যদি কাজ চালিয়ে যেতে চাও, তবে আমাদের চুক্তির ভাগ দিতে হবে। অন্যথায় পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো।” শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীরা তার সাইট সুপারভাইজার রঞ্জনকে আটকে রেখেছিল বলেও অভিযোগ। অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

নাম জড়াল যাদের:
ঠিকাদার মণীশ দাহিয়া তার অভিযোগে দভিন্দর ওরফে সুক্কু, লাখিরাম, দীনেশ দাহিয়া, ভোলা, নবীন, মুন্ডি এবং অজয় দাহিয়া নামে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এই ব্যক্তিরা কুখ্যাত গ্যাংস্টার কৌশল চৌধুরী গ্যাংয়ের সদস্য। এরা নিয়মিত নির্মাণকাজ থেকে তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল এবং অস্ত্র সরবরাহের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

পুলিশি তৎপরতা:
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মণীশ দাহিয়া সেক্টর ১০৮ থানার এসএইচও-র (SHO) কাছে গিয়ে নিজের, পরিবারের এবং কর্মীদের প্রাণরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। দুষ্কৃতীদের এই আস্ফালনে আতঙ্কিত ঠিকাদার দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও কঠোর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেছে কি না বা মামলা রুজু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজটি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গুরুগ্রামের মতো এলাকায় দিনের বেলা এমন তাণ্ডব কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *