ভগবান কৃষ্ণ দিনে ৫ বার নামাজ পড়তেন! মাওলানা জারজিস আনসারির মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড়

ভগবান কৃষ্ণ সম্পর্কে বিস্ফোরক ও অবমাননাকর মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মাওলানা জারজিস আনসারি। ঝাড়খণ্ডের এক জনসভায় তাঁর দাবি, “ভগবান কৃষ্ণ একজন মুসলিম ছিলেন এবং তিনি দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তেন।” এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কী বলেছিলেন মাওলানা?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মাওলানা আনসারি শ্রীমদ্ভগবদ গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের দশম শ্লোক উদ্ধৃত করে দাবি করছেন, এই শ্লোকেই পাঁচবার প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। যদিও শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, শ্লোকটির অর্থ—”যোগী সর্বদা নির্জন স্থানে একা থেকে ধ্যানমগ্ন থাকবেন; তিনি মন ও আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।” এই শ্লোকের সঙ্গে ইসলাম বা নামাজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইসলাম কেবল মুসলমানদের নয়, এটি রামচন্দ্র ও কৃষ্ণ প্রচারিত একটি সর্বজনীন ধর্ম।
বিতর্কিত অতীত ও আইনি জট
মাওলানা জারজিস আনসারি এই প্রথম নয়, আগেও বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে মুসলিম নারীদের নিয়ে তাঁর একটি অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিল। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রসববেদনার সময়ও স্ত্রীর উচিত স্বামীর যৌন আহ্বান প্রত্যাখ্যান না করা। এছাড়া, ২০১৬ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় বারাণসীর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন এবং ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল করার মতো গুরুতর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
মাওলানার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার জন্য এবং জনসমক্ষে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে। ‘কৃষ্ণ জন্মভূমি’ সংক্রান্ত সংবেদনশীল আবহে এই ধরণের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। তবে এই ধরণের বিতর্কিত ধর্মপ্রচারকদের লাগামহীন মন্তব্য আগামী দিনে সমাজ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ।