“সরকারকে বার্তা দিতে অনশন চলবে”- লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ সোনম ওয়াংচুক

নিট (NEET) দুর্নীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতার দাবিতে যন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন ১৯তম দিনে পদার্পণ করল। শরীর দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়লেও, নৈতিক মনোবল ও সংকল্পে তিনি অটল। গত বুধবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
অনশন ভাঙার আবেদন ও সোনমের যুক্তি
গত ১৮ দিনে হাজার হাজার মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে অনশন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকী দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করা হয়েছে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা করানোর জন্য। এই প্রেক্ষিতে সোনম বার্তা দিয়েছেন, “যদি আমি জোর করে খাবার খাই, তাতে সরকারের কাছে কী বার্তা পৌঁছাবে? সরকার তো ভাববে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই, অনশনে বসবে আর আবার চলেও যাবে।” তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, সরকারের নীতি পরিবর্তনের জন্য এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
শারীরিক অবস্থা নিয়ে বড় আপডেট
সোনম জানিয়েছেন, অনশনের ১৮ দিন পরেও তাঁর শারীরিক রিপোর্ট অনুযায়ী সব কিছু ‘স্বাভাবিক’ আছে। তিনি বলেন, “আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি, পেশির ক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু শরীর ও মন এখনও শক্ত। আমি আরও বেশ কিছুদিন এই অনশন চালিয়ে যেতে পারব।” নিয়মিত ইসিজি ও মেডিকেল চেকআপের মাধ্যমেই তাঁকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ ডাক
সোনম ওয়াংচুক সমর্থকদের অনশন ভাঙার অনুরোধ না জানিয়ে বরং ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি আবেদন জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যেন এই আন্দোলনের অংশ হয়। সোনমের কথায়, “এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক বাস্তব শিক্ষা, যা শিক্ষার্থীরা শিখবে কীভাবে সাধারণ মানুষ ও লোকতন্ত্র চলে।”
ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে সোনম ওয়াংচুক এখন একাই পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছেন দিল্লিতে। তাঁর এই লড়াই কি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা স্বচ্ছতার পথ প্রশস্ত করবে? সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।