ফুটবলের মাঠে ‘ফকল্যান্ড’ যুদ্ধ! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পুরনো স্মৃতি উসকে দিলেন মেসিরা

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা তুঙ্গে। তবে খেলার থেকেও এখন বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এক বিশেষ আচরণ। জয়ের মুহূর্ত উদযাপন করতে গিয়ে তাঁরা হাতে তুলে নিলেন ‘লাস মালভিয়ান্স’ লেখা ব্যানার, যা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ও আর্জেন্টিনা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এই কাজের নেপথ্যে রয়েছে ১৯৮২ সালের সেই ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধ। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার। ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকা এই দ্বীপটিকে আর্জেন্টিনা নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। ১৯৮২ সালে তৎকালীন আর্জেন্টাইন সামরিক সরকার দ্বীপটি দখল করলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বে ব্রিটেন সামরিক অভিযান চালায়। অবশেষে ১৪ জুন আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ব্রিটিশদের কাছে সেই হারের ক্ষত আজও আর্জেন্টাইনদের মনে টাটকা।
মাঠের লড়াইয়ে মেসি-ম্যাজিক আটলান্টার সেমিফাইনালে প্রথম ৫৫ মিনিট ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, শেষবেলায় পাল্টে যায় সমীকরণ। অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের আসল মোড় ঘুরিয়ে দেন লিওনেল মেসি। তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেজের শক্তিশালী হেডে গোল নিশ্চিত হয়। জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ইংল্যান্ডের ফাইনালের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন মেসিরা।
🇦🇷 | Argentina players after the game with banner stating: “Las Malvinas Son Argentinas” 👀😅#FIFAWorldCup pic.twitter.com/yCMGvuXmlK
— ULTRA ATTACKIVE (@UltraAttackive) July 15, 2026
কেন এই প্রতিবাদ? ম্যাচ জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ব্যানার প্রদর্শনকে অনেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। ফুটবলের এই মহারণ যেন মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তিক্ততার স্মৃতিকে আবারও উসকে দিল।
বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে আর্জেন্টিনা এখন ফাইনালে, কিন্তু মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি তাঁদের এই ‘রাজনৈতিক উদযাপন’ আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।