‘উপরে বসে সব দেখছেন দিয়েগো’, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মারাদোনাকে আবেগঘন উপহার মেসির

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মঞ্চ, ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ০-১ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্তিনা। লিওনেল মেসির বর্ণময় কেরিয়ারের ‘লাস্ট ড্যান্স’ কি তবে এখানেই থমকে যাবে? কিন্তু রূপকথার স্ক্রিপ্ট লেখা ছিল অন্যভাবে। মেসির দুর্ধর্ষ কামব্যাকে ইংল্যান্ডকে টেক্কা দিয়ে ফাইনালে লিওনেল স্কালোনির দল।
মেসি-ম্যাজিকে বাজিমাত: ম্যাচের অন্তিম লগ্নে জ্বলে ওঠেন মেসি। তাঁর জোড়া অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে মুহূর্তেই বদলে দেন ম্যাচের রং। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নিজের কেরিয়ারের প্রথম ম্যাচে নেমেই এক ইতিহাস গড়লেন এলএমটেন। সেই সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সে এসে গড়ে ফেললেন নতুন বিশ্বরেকর্ড।
মারাদোনাকে বিশেষ উপহার: ম্যাচ জয়ের পর মেসির কণ্ঠে শোনা গেল এক ভিন্ন সুর। জয়ের মুহূর্তটি তিনি উৎসর্গ করেছেন কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনাকে। মেসির কথায়, “আমি নিশ্চিত, দিয়েগো উপর থেকে এই জয় উপভোগ করছেন। আজকের দিনটা ওঁর জন্য খুব বিশেষ। তাঁকে এই আনন্দটুকু দিতে পেরে আমরা আপ্লুত। এই জয় আমাদের পক্ষ থেকে দিয়েগোর জন্য একটি উপহার।”
ফিরে এল ১৯৮৬-র স্মৃতি: ম্যাচের শেষে এক সাংবাদিক মেসির হাতে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের আর্জেন্তিনার ঐতিহাসিক জার্সি তুলে দিলে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। ফুটবলপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ৪০ বছর আগের সেই কিংবদন্তি মুহূর্ত—যখন মারাদোনার হাত ধরে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্তিনা। যেন ইতিহাস নতুন বৃত্তে এসে মিলল মেসির হাত ধরে।
এবার লক্ষ্য ফাইনাল: সেমিফাইনালের এই নাটকীয় জয়ের পর এখন আর্জেন্তিনার নজর বিশ্বকাপের ফাইনালে। প্রতিপক্ষ স্পেন। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দু’বার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আর্জেন্তিনা। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে—মেসি কি পারবেন বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখতে?