১ ঘণ্টার পথ এবার ২০ মিনিটে! বারাণসীতে ২৫ হাজার কোটির মেগা করিডর প্রকল্পে শিলমোহর মোদী সরকারের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শহরের যানজট নিরসন এবং পর্যটন ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বারাণসীতে দুটি বিশাল এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।
গঙ্গা এলিভেটেড করিডর: এক ঘণ্টার পথ এবার ২০ মিনিটে
এই প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণ হলো ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের গঙ্গা এলিভেটেড করিডর। ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই করিডরটি NH-19-কে বারাণসী রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত করবে। এই করিডর চালু হলে বর্তমানে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে, তা মাত্র ২০ মিনিটেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। গঙ্গার ধার ঘেঁষে তৈরি এই পথে গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এই প্রকল্পে থাকছে কেবল-স্টেড ব্রিজ এবং অত্যাধুনিক ভিউ পয়েন্ট।
বরুণা করিডর: যানজট এড়িয়ে সোজা নমো ঘাটে
৪৩.২ কিলোমিটার দীর্ঘ বরুণা এলিভেটেড করিডরের জন্যও ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। ১১ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে থাকছে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড অংশ, যা হারাহুয়া থেকে নমো ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর ফলে লখনউ, জৌনপুর ও প্রয়াগরাজ থেকে আসা পর্যটকরা শহরের মূল যানজট এড়িয়ে সরাসরি নমো ঘাটে পৌঁছাতে পারবেন এবং সেখান থেকে নৌপথে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে যেতে পারবেন।
অর্থনীতি ও পর্যটনে জোয়ারের সম্ভাবনা
বারাণসীতে প্রতি বছর প্রায় ১৫ কোটি মানুষ তীর্থযাত্রী ও পর্যটক হিসেবে আসেন। এই বিপুল যাত্রীচাপ সামাল দিতে এই করিডর দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নতির ফলে বারাণসীর হোটেল শিল্প, রিয়েল এস্টেট এবং খুচরো ব্যবসায় বড়সড় জোয়ার আসবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই প্রকল্পগুলি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ডোমরি, সিরগোবরধনপুর, রামনগর, নাদেশর-সহ বিভিন্ন এলাকার জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকাগুলিতে বর্তমানে জমি কেনাবেচাও বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের এই উদ্যোগে বারাণসী তার প্রাচীন ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতার মেলবন্ধনে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন মানচিত্রে নিজেদের জায়গা আরও সুদৃঢ় করবে।