মমতাপন্থীদের ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি, তবে শর্ত দিল হাইকোর্ট

২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলা দীর্ঘ দড়ি টানাটানির অবসান ঘটল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে। শেষ পর্যন্ত বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা করার অনুমতি পেল কালীঘাট বা মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই সভার জন্য বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে আদালত।

আদালতের নির্দেশ ও শর্তাবলী: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আড়াই হাজার সমর্থক নিয়ে এই সভা করা যাবে। সভার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো হলো:

  • সময়সীমা: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সভা করা যাবে।

  • স্বেচ্ছাসেবক: আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে, যারা সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন।

  • যান চলাচল: সভার কারণে রাস্তার অন্য ফ্ল্যাঙ্কে যান চলাচলে কোনোভাবেই বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।

  • নিরাপত্তা: সভার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখতে হবে।

কেন ভিক্টোরিয়া হাউসের অনুমতি মিলল না? দীর্ঘদিন ধরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের সভা হলেও, এ বছর হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অন্যান্য বারে আপনাদের এই সভার জন্য আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। নগরজীবন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, হাইকোর্টে যাতায়াতের অসুবিধা হয়েছে।” বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত ভিক্টোরিয়া হাউসের বদলে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি দিয়েছে।

অন্যান্য দলের অবস্থান: উল্লেখ্য, ২১ জুলাই একই দিনে শহরে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। শহিদ মিনারে বড় করে শহিদ দিবস পালন করবে প্রদেশ কংগ্রেস, যেখানে অন্তত ১০ হাজার লোকের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সভা হবে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে, যেখানে প্রায় ৭০০-৮০০ জন সমর্থক উপস্থিত থাকবেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

মমতাপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় ৫ হাজার লোকের অনুমতির আর্জি জানালেও, আদালত ‘শহরের বর্তমান পরিস্থিতি’ ও জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে সংখ্যাটি আড়াই হাজারে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায়কে দুই শিবিরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে এক বড় প্রশাসনিক মোড় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *