মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মদন মিত্র, ঋতব্রতর পাশে বসে বোঝালেন ‘খাটিয়া-পালঙ্ক ’ তত্ত্ব

বাংলার রাজনীতির ময়দানে ফের বড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। শুধু ইস্তফাই নয়, দলবদলের জল্পনা সত্যি করে বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করলেন তিনি। ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পর এবার মদন মিত্রেরও ‘শিবির বদল’ নিশ্চিত করল রাজ্যের রাজনীতির নয়া সমীকরণ।
‘সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়াতেই স্বস্তি’
ইস্তফা দেওয়ার পর মদন মিত্রের এই দলবদল নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য, তখন তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ব্যাখ্যা দিলেন নিজের অবস্থানের। মদনবাবু বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু ও ঘর থেকে এ ঘরে এলাম। ও ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, এ ঘরে খাটিয়া আছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ‘সুখের পালঙ্ক’ বলতে তিনি পুরনো তৃণমূল নেতৃত্ব বা ক্ষমতা বলয়কে বুঝিয়েছেন, আর ‘খাটিয়া’ বলতে ঋতব্রত-শিবিরের নতুন চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরেছেন।
রাজনীতির সমীকরণ কি বদলে গেল? দলের প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতাদের একের পর এক শিবির বদল তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতকে কতটা নাড়িয়ে দেবে, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। বিশেষ করে মদন মিত্রের মতো একজন জনপ্রিয় নেতার এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরের কোন্দলকে আরও প্রকট করে তুলল।
মদন মিত্রের এই দলবদল আগামী বিধানসভার অধিবেশনে কী প্রভাব ফেলে এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এর পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেটাই দেখার।