মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাল নবান্ন, সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী

প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, অবশেষে তাতে ইতি টানল বর্তমান রাজ্য সরকার। পাম অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনে থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সরকারি নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সৌজন্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে কী বললেন মীরা ভট্টাচার্য? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সরকারি এই নতুন সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, “বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পরই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এখন অবশ্য আমার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যদি আমার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য।”
কেন এই সিদ্ধান্ত? চলতি বছরের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেই মীরা ভট্টাচার্যের সুরক্ষার বিষয়টি নজরে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বার্তা হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাদামাটা জীবন ও প্রশাসনিক বার্তা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবদ্দশায় তাঁরা কখনই পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই পরিচিত ফ্ল্যাট ছেড়ে বিলাসবহুল সরকারি আবাসনে যাননি। সেই স্মৃতি আঁকড়েই আজও একা সেখানে বসবাস করেন মীরা ভট্টাচার্য। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তিনি। মীরা দেবী আশা প্রকাশ করেছিলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।
রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সৌজন্যের স্থান এখনও অটুট।