হরিদ্বারের পথে পথে অন্ন বিলিয়েছেন যিনি, সেই ‘ভান্ডারা রাজা’র শেষ বিদায় কাঁদাল হাজারো ভক্তকে!

হরিদ্বারের অলিগলি, বিশেষ করে ‘হর কি পাউরি’ এলাকা যার পদচারণায় মুখর থাকত, সেই রামশঙ্কর গুপ্ত—যিনি ভক্তদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘ভান্ডারা ওয়ালে বাবা’ বা ‘ভান্ডারা রাজা’ নামে—তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর অকাল ও নিঃসঙ্গ প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কে ছিলেন এই ভান্ডারা ওয়ালে বাবা?
উত্তর প্রদেশের হারদোই জেলার বাসিন্দা রামশঙ্কর গুপ্ত দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হরিদ্বারকে নিজের আপন নিবাস করে নিয়েছিলেন। কোনো বড় আশ্রম বা প্রভাবশালী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও তিনি নিজের চেষ্টায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞ গড়ে তুলেছিলেন। অভাবী মানুষ ও সাধুদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার ব্রত ছিল তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি তীর্থযাত্রীদের অভাবীদের জন্য ভোজের আয়োজন করতে অনুপ্রাণিত করতেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগই তাঁকে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রিয় করে তুলেছিল।
নিঃসঙ্গ শেষ দিন ও করুণ পরিণতি
শেষ জীবনটা বড়ই কষ্টকর ছিল এই মানুষটির। গত ৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে হরিদ্বারের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের কাছে একটি শৌচাগারের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, অসুস্থতার কারণেই ৫৮ বছর বয়সী রামশঙ্কর গুপ্তের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক অনটনের কারণে পরিবারের সদস্যরা হরিদ্বারে পৌঁছাতে পারেননি।
পুলিশের মানবিক মুখ
পরিবার পাশে না থাকলেও, হরিদ্বার পুলিশ এই মানবিক সংকটে এগিয়ে আসে। দায়িত্বের খাতিরে নয়, বরং গভীর সহমর্মিতা থেকে পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই ছেলের ভূমিকা পালন করেন। গত ১২ জুলাই, ২০২৬ তারিখে হিন্দু শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী খারখারি শ্মশানে সসম্মানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে হরিদ্বার পুলিশ।
শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া
রামশঙ্কর গুপ্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঝড় ওঠে। অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর স্মৃতিচারণ করে লিখছেন, “হর কি পাউড়ির ভান্ডারা কর্মসূচির আসল অনুপ্রেরণা আজ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।” হাজার হাজার মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার যে পথ তিনি দেখিয়েছিলেন, তা মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।