অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলা! প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেনসহ ৪ জন দোষী সাব্যস্ত, কী বললেন আদালত?

২০২০ সালের ভয়াবহ উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) কর্মী অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় বড় রায় দিল দিল্লির একটি আদালত। এই মামলায় প্রাক্তন আপ (AAP) কাউন্সিলর তাহির হুসেনসহ মোট চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই রায়ের মূল ভিত্তি ছিল একমাত্র সাক্ষী প্রদীপ ভার্মার বয়ান।

আদালতের রায়ে কী উঠে এল?
আদালত জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা ঘটনার দিন আইবি কর্মী অঙ্কিত শর্মাকে ঘিরে ফেলে চাঁদবাগের কালভার্টের দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে আক্রমণ করেছিল। তাহির হুসেন ছাড়াও দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে রয়েছে নাজিম, কাসিম এবং জাভেদ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারার অধীনে তাদের হত্যা ও দাঙ্গার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। একই মামলায় হাসিন ওরফে মোল্লাজি, ফিরোজ, গুলফাম, সোয়েব, সামির খান এবং মুনতাজিম ওরফে মুসাকে প্রমাণের অভাবে খালাস দিয়েছে আদালত।

সাক্ষী প্রদীপ ভার্মা: বিশ্বাসযোগ্য না কি বিতর্কিত?
এই মামলার প্রধান সাক্ষী প্রদীপ ভার্মাকে ঘিরে আদালতে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে। প্রদীপ নিজেই দাঙ্গা সংক্রান্ত আরও ৯টি এফআইআর-এ সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও আদালত তাকে একজন ‘স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য’ সাক্ষী হিসেবে গণ্য করেছে।

অভিযোগ: আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি ছিল, প্রদীপ একটি অবৈধ পার্কিং লট চালাতেন, তাই পুলিশের চাপে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: আদালত প্রদীপকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বা ‘আকস্মিক সাক্ষী’ বলার ধারণাটি খারিজ করে দিয়েছে। বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২০ সালের দাঙ্গার আগে প্রদীপের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই, যা তাকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেয়।

সাক্ষ্যের বিভ্রান্তি ও আদালতের সতর্কতা
আদালত এই মামলায় প্রদীপের সাক্ষ্যকে সব ক্ষেত্রে সমানভাবে গ্রহণ করেনি। যেখানে নাজিম ও কাসিমের ক্ষেত্রে প্রদীপের শনাক্তকরণকে আদালত মান্যতা দিয়েছে, সেখানে ফিরোজ এবং মুনতাজিমের ক্ষেত্রে তার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়াকে ‘নিরাপদ নয়’ বলে মনে করেছে আদালত।
একইভাবে, প্রদীপ যখন নিজেকে দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করেন, তখন তাহির হুসেনের ভূমিকা নিয়ে তিনি কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি করেছিলেন। তবুও প্রদীপ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাহির হুসেনের বিরুদ্ধে দাঙ্গা ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছে। তবে উস্কানি ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বিচারব্যবস্থার অবস্থান
আদালত জানিয়েছে, যেহেতু দাঙ্গার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অনেক সময় একাধিক সাক্ষী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তাই একজন বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মামলা প্রমাণ করল যে, একজন সাক্ষীর বয়ান কীভাবে দেশের অন্যতম আলোচিত হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের অপরাধের প্রমাণ বহন করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *