ট্রাম্পের ‘TACO’ কৌশল: বিনিয়োগকারীদের পকেটে টান, অথচ নিজের সম্পদ বাড়ালেন ৪ গুণ!

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাগাড়ম্বর এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতি এক অদ্ভুত কৌশলের দিকে তাকিয়ে। ওয়াল স্ট্রিটের বাঘা বিনিয়োগকারীরা এই কৌশলের নাম দিয়েছেন ‘TACO’ (Trump Always Claps Out বা ট্রাম্প সবসময় পিছু হটেন) ট্রেড। আপাতদৃষ্টিতে ট্রাম্পের প্রতিটি কঠোর হুমকিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ালেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন নিশ্চিত যে, শেষ পর্যন্ত বড় কোনো যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

‘TACO’ ট্রেড আসলে কী?
ইরান ও আমেরিকার উত্তেজনার আবহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৬.৫ ডলার পেরিয়ে গেলেও, শেয়ার বাজারে ধস নামেনি। অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ট্রাম্পের কঠোর নীতি শুধু কথার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ। এই আত্মবিশ্বাসের ফলেই ভারতীয় সেনসেক্স বা নিফটিতে বড় কোনো পতন ঘটেনি। বাজার এখন ট্রাম্পের এই ‘পিছিয়ে আসার’ কৌশলের ওপরই বাজি ধরছে।

ক্রিপ্টো শুধু অন্যের জন্য, নিজের জন্য ট্রাম্পের সুরক্ষা বলয়
রাজনৈতিক কৌশলের মতোই ট্রাম্পের আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোও রহস্যময়। নিজের ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়রকে দিয়ে তিনি বারবার সাধারণ মানুষকে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়াল’ বা ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্রিপ্টো প্রকল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছেন। এমনকি বিটকয়েনের দাম ১০ লক্ষ ডলারে পৌঁছানোর জল্পনাও ছড়ানো হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন:

বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি: ট্রাম্প-সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রকল্পে লগ্নি করে এপ্রিল পর্যন্ত খুচরা বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার খুঁইয়েছেন।

ট্রাম্পের মুনফা: উল্টো দিকে, ক্রিপ্টো থেকে অর্জিত প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার ট্রাম্প নিরাপদ স্টক ও বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন। গত দুই বছরে তার এই নিরাপদ পোর্টফোলিও ৪ গুণ বেড়ে ২.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ভারতীয় বাজারের জন্য সুখবর?
ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ৪ মাসে ২.৭১ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার পর, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা (FII) ফের ভারতের ওপর ভরসা রাখছেন। জুলাই মাসে ১১,৬০৫ কোটি টাকার নিট ক্রয় তার প্রমাণ। গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের জুনের মধ্যে নিফটি ২৬,৫০০ পয়েন্ট স্পর্শ করতে পারে। বাজার ধরে নিয়েছে, ট্রাম্পের ‘TACO’ ট্রেড সফল হবে এবং বড় যুদ্ধ এড়ানো যাবে। তাই তাইওয়ান বা দক্ষিণ কোরিয়ার বদলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতই এখন নতুন গন্তব্য।

ট্রাম্পের এই দ্বৈত নীতি কি দীর্ঘমেয়াদে তার ভাবমূর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলবে, নাকি ওয়াল স্ট্রিট ও বিনিয়োগকারীরা তার কৌশলের ওপর ভরসা রেখেই মুনাফা অর্জন চালিয়ে যাবে—তা সময়ই বলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *