২৬ বছর পর কি মুক্তি পাবেন গ্রাহাম স্টেইনস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা দারা সিং? সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ!

ওড়িশার চাঞ্চল্যকর গ্রাহাম স্টেইনস হত্যাকাণ্ডের মূল দোষী, ৬২ বছর বয়সী দারা সিংকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ১৯৯৯ সাল থেকে কারাবন্দী দারা সিং দীর্ঘ ২৬ বছর কারাভোগের পর এবার মুক্তির পথে। ওড়িশা রাজ্য দণ্ড পর্যালোচনা বোর্ড (State Sentence Review Board) তাঁর মুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করার পর, বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও সময়সীমা
মঙ্গলবার বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, দারা সিংয়ের মুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্য সরকারকে ১৫ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৯ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে। দারা সিংয়ের আইনজীবী এপি সিং জানিয়েছেন, ঠিকানা যাচাইয়ের মতো আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই মুক্তির পথ সুগম হবে।

ওড়িশা সরকারের মুক্তি নীতি কী?
দীর্ঘ ২৬ বছর প্যারোল ছাড়াই কারাগারে কাটানো দারা সিং ওড়িশা সরকারের দণ্ড মওকুফ (Remission) নীতির আওতায় মুক্তির দাবিদার। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যেসব আসামির মৃত্যুদণ্ড পরবর্তীকালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে, তারা ন্যূনতম ২৫ বছর কারাভোগের পর দণ্ড পর্যালোচনা বোর্ডের সুপারিশক্রমে মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। দারা সিং সেই শর্ত পূরণ করেছেন বলেই আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সেই ভয়াবহ স্মৃতি: গ্রাহাম স্টেইনস হত্যা মামলা
১৯৯৯ সালের ২২ জানুয়ারি ওড়িশার কেওনঝড় জেলার মনোহরপুর গ্রামে ঘটেছিল এই লোমহর্ষক ঘটনা। অস্টেলিয়ান মিশনারি গ্রাহাম স্টুয়ার্ট স্টেইনস এবং তাঁর দুই নাবালক ছেলে ফিলিপ ও টিমোথিকে একটি গাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, স্টেইনস জোরপূর্বক ধর্মান্তর করছেন। যদিও পরবর্তীতে বিচারপতি ডি.পি. ওয়াধওয়া কমিশন তাদের তদন্তে এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি। উল্টো দেখা যায়, স্টেইনস দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কুষ্ঠ রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

মামলার বর্তমান আইনি অবস্থান
দোষী সাব্যস্ত: সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত দারা সিং সহ মোট ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।

দণ্ডাদেশ: ২০০৩ সালে নিম্ন আদালত দারা সিংকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা ২০০৫ সালে ওড়িশা হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের এই রায়ই বহাল রাখে।

অন্যান্য বন্দি: গত বছর এই মামলার আরেক আসামি মহেন্দ্র হেমব্রাম জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

বর্তমানে দারা সিংয়ের মুক্তির বিষয়টি আইন ও মানবিকতার নিরিখে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯ আগস্টের পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী চূড়ান্ত রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *