সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় বড় ছাঁটাই! মহারাষ্ট্রে বাদ ৯২ লক্ষ, পশ্চিমবঙ্গেও কড়াকড়ি।

সরকারি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরাতে তৎপর প্রশাসন। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার তাদের ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ থেকে প্রায় ৯২ লক্ষ সুবিধাভোগীর নাম বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া।
মহারাষ্ট্রের প্রকল্পে বড় ছাঁটাই কেন?
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের এই প্রকল্পে আগে ২.৪৩ কোটি সুবিধাভোগী থাকলেও, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ১.৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। অডিট রিপোর্ট ও যাচাইয়ের পর দেখা গিয়েছে, প্রকল্পের শর্ত পূরণ না করায় বিপুল সংখ্যক মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে:
ই-কেওয়াইসি (e-KYC) বিভ্রাট: প্রায় ৬২ লক্ষ মানুষ (মোট বাদ পড়াদের ৬৭%) বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারেননি।
আয়সীমা অতিক্রম: প্রায় ১৬ লক্ষ সুবিধাভোগীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি ছিল।
অন্যান্য অযোগ্যতা: সরকারি কর্মী হওয়া, বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পার হওয়া, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সুবিধা নেওয়া এবং এমনকি প্রায় ২৯ হাজার পুরুষের নামও অযোগ্য হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি অর্থের অপচয়: প্রাথমিক অনুমান, এই যাচাই প্রক্রিয়ার আগে অযোগ্য সুবিধাভোগীরা সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা পেয়েছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গে কী চলছে?
পশ্চিমবঙ্গেও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের তথ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। যে সমস্ত আবেদনকারীর আবেদন আগে বাতিল হয়েছিল বা যেগুলি ‘আন্ডার এনকোয়েরি’ (Under Enquiry) হিসেবে ছিল, সেগুলোর ভেরিফিকেশন শুরু হয়েছে। অযোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার প্রধান লক্ষ্য।
প্রকল্পের পরিধি:
মহারাষ্ট্রের ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’ ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মহিলাদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছিল, যার বাজেট বরাদ্দ ইতিমধ্যে ৬০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অডিট রিপোর্টে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অভাবের মতো বিষয়গুলো সামনে আসায় সরকার নতুন করে এই কড়াকড়ি শুরু করেছে।