তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! অভিষেকের ক্ষমতা খর্ব করে বড় বার্তা দিলেন মমতা?

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন ঘিরে ঘাসফুল শিবিরে এখন ভাঙনের সুর স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এখন দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রবীণ নেতাদের ক্ষোভের কারণ
তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ নেতা-নেত্রী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের ধরন এবং নির্বাচনের আগে আই-প্যাক (I-PAC)-এর হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়—প্রত্যেকেই অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতে, অভিষেককে কিছুদিনের জন্য সরিয়ে দিলেই পুরনো কর্মীরা দলে ফিরতে পারেন। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ‘অভিষেক না কি আমি’—এই মর্মে আল্টিমেটামও দিয়েছেন বলে খবর।

আই-প্যাক ও ‘কর্পোরেট তৃণমূল’ বিতর্ক
দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে আই-প্যাক ও অভিষেকের ‘অনভিজ্ঞতা’কে দায়ী করছেন অনুব্রত মণ্ডল, বিকাশ রায়চৌধুরীর মতো নেতারা। তাঁদের দাবি, ছোট থেকে রাজনীতি না করেই অভিষেকের এই দ্রুত উত্থান এবং দলের অন্দরে কর্পোরেট সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ তৃণমূলের ঐতিহ্য নষ্ট করেছে। শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্তোষ কুমার সিং-এর মতো নেতাদের অভিযোগ, ‘কর্পোরেট তৃণমূল’ গড়তে গিয়ে অভিষেক দলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিকদের ব্রাত্য করে রেখেছেন।

মমতার কি কৌশলী পদক্ষেপ?
দলের অন্দরে এমন প্রবল বিদ্রোহের মুখে পড়ে আংশিক কৌশল বদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে না সরালেও, তাঁর ক্ষমতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের ওপর নজরদারি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন দলনেত্রী।

ভবিষ্যৎ কী?
এত বিদ্রোহ, প্রবীণ নেতাদের দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং লাগাতার সমালোচনা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পর্যন্ত অভিষেককে সরানোর কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেননি। তবে অভিষেকপন্থী এবং পুরনো ঘরানার নেতাদের এই লড়াইয়ে দলের অন্দরে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনের নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *