যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ৮৪ বছরের ফ্যাশন ডিজাইনার পিটার নাইগার্ড, আদালতে স্বীকারোক্তি

একসময়কার বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার পিটার নাইগার্ড আরও একটি যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন। সোমবার অন্টারিও কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টরন্টোর আদালতে হাজিরা দিয়ে ৮৪ বছর বয়সী নাইগার্ড ১৯৯৭-৯৮ সালের একটি ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।
কী ঘটেছিল সেই সময়?
ভুক্তভোগী তরুণী সেই সময় মাত্র ১৮ বছর বয়সী এক মডেল ছিলেন। ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি নাইগার্ডের সংস্পর্শে আসেন। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, পিটার নাইগার্ড তার খ্যাতনামা কোম্পানি ‘নাইগার্ড ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পাওয়া প্রভাব খাটিয়ে তরুণীকে মন্ট্রিলের একটি বিলাসবহুল পেন্টহাউসে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। তাকে বাহামাসে বিলাসবহুল জীবন কাটানোর প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল।
অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তি:
প্রায় ১০ দিন ধরে চলার কথা ছিল এই বিচার প্রক্রিয়া। বিচারক রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন এবং অভিযোগকারী তরুণীও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। তবে হঠাৎই নাইগার্ড নিজের সিদ্ধান্ত বদলে দোষ স্বীকার করে নেন। সরকারি কৌঁসুলি জেরোম লাফ্লাম জানিয়েছেন, এই স্বীকারোক্তি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তবে রাষ্ট্রপক্ষের পেশ করা অকাট্য প্রমাণের মুখে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা কোনো আপত্তি তোলেননি।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সাজা:
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে অন্য চারজন নারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে পিটার নাইগার্ড ইতিমধ্যে ১১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আগামী ২ অক্টোবর মন্ট্রিলের আদালত এই মামলার চূড়ান্ত সাজার ঘোষণা দেবে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত সাজা ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাইগার্ডের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং যৌন পাচারের আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাকে মার্কিন প্রশাসনের হাতে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে। ২৫ বছর ধরে ফ্যাশন কোম্পানির তহবিল ও কর্মীদের ব্যবহার করে যেভাবে তিনি নারীদের ফাঁদে ফেলতেন, তা আজ বিশ্ব ফ্যাশন জগতের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।