‘গাছটাকেও ছাড়েনি…’, ফের তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন বড় বার্তা

অরণ্য সপ্তাহের সূচনাতেই রাজ্যের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বসূরী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে অরণ্য সপ্তাহের সূচনায় যোগ দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে যথেচ্ছভাবে গাছ কেটে জঙ্গল সাফ করা হয়েছে। এর ফলে সবুজ পশ্চিমবঙ্গ এখন ‘কংক্রিটের জঙ্গল’-এ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘হেলিকপ্টারে উঠলেই শিউরে উঠি’ এদিন সরাসরি তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হেলিকপ্টারে যখনই উঠি, শিউরে উঠি নিচের দিকে তাকিয়ে। একসময়ের অরণ্যসুন্দর ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা তরাই-ডুয়ার্সের যে অবস্থা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। আপনারা (তৃণমূল) পরিবেশ ধ্বংসের চূড়ান্ত করেছেন।” তিনি জানান, যে হারে বনজ সম্পদ নিধন হয়েছে, তাতে রাজ্যের পরিবেশের মান উদ্বেগজনকভাবে নিচে নেমেছে।

সাংসদ-বিধায়কদের জন্য বিশেষ টার্গেট পরিবেশের এই বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে দলের জনপ্রতিনিধিদের বড়সড় দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন:

  • প্রতিটি বিধায়ককে তাঁদের বিধানসভা কেন্দ্রে ১ লক্ষ গাছ লাগাতে হবে।

  • সাংসদদের টার্গেট দেওয়া হয়েছে তাঁদের কেন্দ্রে ৭ লক্ষ গাছ লাগানোর।

  • চলতি বছরের পরিবেশ দিবসে ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

‘শুধু গাছ লাগানো নয়, নজরদারিও জরুরি’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শুধু গাছ পুঁতে দিলেই হবে না, মনিটরিং করতে হবে। অন্তত ২ বছর গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। হাজারটা গাছ লাগালে যদি অর্ধেকও টিকে থাকে, তবেই লক্ষ্য পূরণ হবে।”

বন দপ্তরে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলের বার্তা তৃণমূল জমানায় বন দপ্তর অবহেলিত ছিল বলে দাবি করে শুভেন্দু জানান, তাঁর সরকার বন দপ্তরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেবে। ওডিশা বা ছত্তিশগড়ের মডেল অনুসরণ করে কীভাবে বন দপ্তরকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরী করা যায়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন, আসুন দূষণমুক্ত, পরিবেশবান্ধব ও অরণ্যসুন্দর পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *