অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সোনম ওয়াংচুক, ১৭ দিনের অনশনে ওজন কমল ৮ কেজি

দেশব্যাপী মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চরম দুর্নীতির প্রতিবাদে দিল্লির বুকে আমরণ অনশনে বসেছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা ১৭ দিন অন্নত্যাগ করায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা ও উদাসীনতা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।
শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি: চিকিৎসকদের কঠোর সতর্কতা সত্ত্বেও অনশন ভাঙতে নারাজ এই সমাজকর্মী। জানা গেছে, অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৮ কেজি কমে গেছে। রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে ওঠানামা করছে, পাশাপাশি পেশী ক্ষয় ও মাথা ঘোরার মতো গুরুতর সমস্যায় তিনি ভুগছেন। অনশনস্থলে চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দাবি ও ক্ষোভ: সোনম ওয়াংচুকের মূল দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক সাড়া না মেলায় তিনি ক্ষুব্ধ। সোমবার রাতে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-এর মুখপাত্রের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার যতক্ষণ না তাঁদের সঙ্গে সংলাপে বসছে, ততক্ষণ এই অনশন চলবে।
সরকারের নীরবতায় তীব্র নিন্দা: সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক সরকারের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সোনম ওয়াংচুক ভারতের গর্ব। তিনি দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন, অথচ সরকার একজন প্রতিনিধি পাঠানোর প্রয়োজনও মনে করছে না। সরকারের এই চরম উদাসীনতা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
দেশব্যাপী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি: সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে সিজেপির পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে ভারতের পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে এক বিশাল শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিককে এই সংহতি মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেখানে ঝুঁকির মুখে, সেখানে সরকারের এই নীরবতা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, সরকারের তরফ থেকে কোনো আলোচনা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।