‘প্রাকৃতিক সোনা’র সন্ধানে! তিমির বমি থেকে কোটিপতি, কীভাবে বদলে গেল জেলেদের জীবন?

সমুদ্রের বুকে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ করেই কোটিপতি হওয়ার ঘটনা রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে। ইয়েমেনের একদল জেলের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে এডেন উপসাগরে ভাসমান এক মৃত তিমির সৌজন্যে। সেই তিমির পেট থেকে পাওয়া ‘অ্যাম্বারগ্রিস’ (Ambergris) তাদের হাতে তুলে দিয়েছে ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা)।

কী এই ‘অ্যাম্বারগ্রিস’?

বিজ্ঞানের ভাষায়, এটি স্পার্ম তিমির পরিপাকতন্ত্রে নিঃসৃত এক বিশেষ রস, যা জমাট বেঁধে শক্ত মোমের মতো আকার ধারণ করে। সামুদ্রিক এই প্রাণীটি যখন ধারালো বা শক্ত কোনো খাবার খায়, তখন সেই অংশ যাতে পরিপাকতন্ত্রকে ফুটো করতে না পারে, তার সুরক্ষায় এই রস নিঃসৃত হয়। এটি তিমির বমি বা মল হিসেবে নির্গত হয় বলে একে ‘হোয়েলের বমি’ বা ‘ভাসমান সোনা’ও বলা হয়।

কেন এটি এত মূল্যবান? এর দুষ্প্রাপ্যতা এবং সুগন্ধি তৈরিতে অনন্য ব্যবহারের কারণেই এর বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া। সমুদ্রবিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরীর মতে, বিশ্বে থাকা স্পার্ম তিমির মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশের পেটে এই ব্যবহারযোগ্য অ্যাম্বারগ্রিস পাওয়া যায়। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি অ্যাম্বারগ্রিসের দাম প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৬১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।

জেলেদের ভাগ্যের মোড়: ইয়েমেনের এই জেলেরা হঠাৎ পাওয়া এই বিপুল অর্থে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কেউ কিনেছেন বাড়ি-গাড়ি, কেউ আবার নতুন সংসার পাতার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া উপার্জিত অর্থের একটি অংশ দান করেছেন দরিদ্রদের মধ্যে। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় লড়াই করা এই মানুষগুলোর কাছে এই প্রাপ্তি ছিল রূপকথার মতো।

প্রকৃতির রহস্যময় ভাণ্ডারে লুকিয়ে থাকা এই ‘প্রাকৃতিক সোনা’ যে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, ইয়েমেনের জেলেদের এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *