রেকর্ড ভাঙা দাম! সোনা ও রুপোর অগ্নিমূল্যে মাথায় হাত আমজনতার, নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতীয় বুলিয়ন বাজারে। মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, বাজার খুলতেই সোনা ও রুপোর দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেল। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ওপর ভরসা বাড়ায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে হলুদ ধাতুর দর।
সোনার দামের নতুন রেকর্ড:
আজ প্রতি ১০ গ্রাম ২৪-ক্যারেট সোনার দাম ১,২৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১,৪১,৮২০ টাকা। অন্যদিকে, গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত ২২-ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রাম প্রতি ১,৩০,০০২ টাকায় পৌঁছেছে।
রুপোর দামের ঊর্ধ্বগতি:
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও ঝড়ের গতি দেখা যাচ্ছে। প্রতি কিলোগ্রাম রুপার দাম ২,১৩০ টাকা বেড়ে পৌঁছেছে ২,১৯,৮৮০ টাকায়। এমসিএক্স (MCX) ফিউচার মার্কেটেও রুপার দর ২,২০,০০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
প্রধান শহরগুলোতে সোনার দর (প্রতি ১০ গ্রাম):
কলকাতা: ১,৪১,১৫০ টাকা
নয়াদিল্লি: ১,৪১,১০০ টাকা
মুম্বাই: ১,৪১,৩৪০ টাকা
চেন্নাই: ১,৪১,৭৫০ টাকা
বেঙ্গালুরু: ১,৪১,৪৫০ টাকা
হায়দ্রাবাদ: ১,৪১,৫৭০ টাকা
কেন এই অস্থিরতা?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার বাজারে ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনা ও রুপাকেই বেছে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, যার ফলে চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়ছে।
বলা বাহুল্য, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা না কমা পর্যন্ত সোনা ও রুপোর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকারই সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারী থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই এখন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।