‘অভিযোগ করলি কেন?’ বিজেপি নেতাকে বেধড়ক মারধর, আটক তিন তৃণমূল কর্মী

সরকারি খাস জমি দখল নিয়ে প্রতিবাদ করায় এবার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন বিজেপির এক বুথ সহ-সভাপতি। বুধবার রাতে মালদার গাজোলে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতা চন্দন রায়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগ, গাজোলের সালাইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের জীবনপুর এলাকায় প্রায় ৬০ বিঘা সরকারি খাস জমি বেআইনিভাবে দখল করার চেষ্টা করছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী দেবদুলাল রায় ও তাঁর সহযোগীরা। এই জবরদখল নিয়ে সম্প্রতি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপির বুথ সহ-সভাপতি চন্দন রায়।
সূত্রের খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সরকারি কর্মীরা ওই জমি মাপজোক করতে গেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দন রায়। সে সময় প্রকাশ্যে সরকারি আধিকারিকদের সামনেই বিজেপি নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে চন্দনের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তেরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিজেপি নেতার মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা ছুটে আসতেই অভিযুক্তেরা এলাকা থেকে চম্পট দেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতা: গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে চন্দনকে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: আক্রান্ত নেতার ভাই পরিমল রায়ের অভিযোগ, “সরকারি জমি দখল করে বিক্রির চেষ্টা করছিল তৃণমূলের লোকজন। দাদা বাধা দেওয়াতেই এই হামলা।” বিজেপির উত্তর মালদা তপশিলি জাতি মোর্চার সভাপতি মনোতোষ মণ্ডলের দাবি, জমি মাফিয়াদের দাপট রুখতেই খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “পুলিশ প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা এই জবরদখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
পুলিশি পদক্ষেপ: গাজোল থানার পুলিশ জানিয়েছে, আহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত আরও একজনকে ধরতে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হামলার ঘটনাটি বুঝতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিঃদ্রঃ খবরে ব্যবহৃত ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত